রাজধানীর মুগদা এলাকায় খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় মাথাবিহীন মরদেহের সাতটি খণ্ড উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা পর পাশের এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন মাথাটিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রোববার (১৭ মে) দুপুরে মুগদা থানার পুলিশ মান্ডা এলাকার আব্দুল করিম রোডের ২৬০/১ নম্বর ‘শাহনাজ ভিলা’র বেজমেন্ট থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় মরদেহের সাতটি অংশ উদ্ধার করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মরদেহটির মাথা, হাত ও পা আলাদা করে টুকরো করা ছিল। তাদের ধারণা, হত্যাকাণ্ডটি অন্য কোথাও সংঘটিত হওয়ার পর মরদেহ এনে ওই এলাকায় ফেলে রাখা হয়েছে।
মুগদা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জালাল উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, প্রথমে বেজমেন্ট থেকে মরদেহের সাতটি খণ্ড উদ্ধার করা হলেও মাথার অংশ পাওয়া যায়নি। পরে ঘটনাস্থলের পাশের একটি ময়লার স্তূপে তল্লাশি চালিয়ে বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, মরদেহটি পচাগলা অবস্থায় ছিল এবং পেট থেকে ভুঁড়ি বের হয়ে আসছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ৬ দিন আগে ওই ব্যক্তিকে অন্য কোথাও হত্যার পর মরদেহ টুকরো টুকরো করা হয়। পরে পলিথিনে ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে রেখে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি একজন পুরুষের। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের নাম-পরিচয় বা বয়স শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরিচয় শনাক্ত ও হত্যার রহস্য উদঘাটনে ঘটনাস্থল এবং আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে র্যাব তিনজনকে আটক করেছে বলে জানা গেছে। আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মধ্যরাতে পার্শ্ববর্তী মানিকনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মরদেহটির মাথার অংশ উদ্ধার করা হয়।
মুগদা থানার উপ-পরিদর্শক অনুপ বিশ্বাস গণমাধ্যমকে জানান, মানিকনগরের একটি গলির ভেতর থেকে মাথার অংশটি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো নিহত ব্যক্তির হাতের একটি অংশের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ গণমাধ্যমকে বলেন, একজন অজ্ঞাত পুরুষের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের পরিচয় শনাক্ত এবং ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহের খণ্ডিত অংশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এফপি/অ