কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের মরদেহ দাফনের সময় ওই ছবি ও কবরের দৃশ্য না দেখানোর জন্য অনুরোধ করেছেন তার মা লোপা কায়সার। রোববার (১৭ মে) বিকেলে মরদেহ নিয়ে বিমানবন্দর থেকে বাসার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার সময় এ অনুরোধ জানান কারিনার মা।
এসময় উপস্থিত সাংবাদিকসহ অন্যান্যরা ছবি ও ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে তাদের সবাইকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান তিনি।
কারিনার মা বলেন, আমরা চাই না মরদেহ দাফনের সময় ছবি ও কবর দেখানো হোক। এসব আমাদের ধর্মের পরিপন্থি। আপনারা সবাই ওর জন্য দোয়া করবেন, জানাজায় অংশ নিবেন।
কারিনাকে বহনকারী বিমানটি রোববার বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। কারিনার মরদেহ গ্রহণ করেন তার বাবা জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ।
এদিকে রোববার কারিনার মা লোপা কায়সার সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন একটি পোস্ট দিয়েছেন। তাতে তিনি বলেন ‘জীবনের অনেক বড় বড় পরীক্ষা হাসিমুখে পার করেছি। কখনও কারো কাছে কিছু চাইনি, কারো অপকার করিনি। সব সময় চেষ্টা করেছি মানুষের উপকার করতে। আজ আমার মেয়েকে ছাড়া জীবনের ভার আমি কীভাবে বয়ে বেড়াব জানি না।’
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ রোববার মাগরিবের নামাজের পর রাজধানীর বনানীর ডিওএইচএস মাঠে কারিনার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বাদ এশা বনানী দরবার শরিফে দ্বিতীয় জানাজা হবে। রাত ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে তার মরদেহ। সোমবার ফজরের পর মুন্সিগঞ্জের আবদুল্লাহপুরে তাকে দাফন করা হবে।
প্রসঙ্গত, লিভার সংক্রান্ত জটিলতায় কয়েক দিন ধরে সংকটাপন্ন ছিলেন কারিনা কায়সার। প্রথমে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় তাকে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ভারতের চেন্নাই নেওয়া হয়। সেখানে ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিকেল কলেজ সিএমসি হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসকেরা প্রথমে তার ফুসফুসের চিকিৎসা শুরু করেন। এরপর লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও চলছিল।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন কারিনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্ট তরুণ দর্শকদের কাছে তাকে জনপ্রিয় করে তোলে। পরে ওটিটি ও নাটকের জগতেও ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬ ২৪ ৩৬’।
এফপি/জেএস