মামলা, কারাবরণ, আত্মগোপন আর দীর্ঘ নির্বাসনের গল্প পেরিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সদস্য সচিব সাজ্জাদুল মিরাজ। রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম, গ্রেপ্তার ও নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েই পথ চলেছেন তিনি।
১৯৯৫ সালে ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় হন সাজ্জাদুল মিরাজ। পরে ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে মিরপুর কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জিএস পদে প্রার্থী হলেও সে সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতায় আর কমিটি গঠন হয়নি।
আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজনৈতিকভাবে টার্গেটের শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে তার অনুসারীদের। একপর্যায়ে আত্মগোপনে যেতে হয় তাকে, পরে দেশ ছাড়তেও বাধ্য হন। দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকলেও দলীয় যোগাযোগ ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যান তিনি।
ওয়ান-ইলেভেনের সময় দেশে ফেরার মাত্র ১৫ দিনের মাথায় যৌথ বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন সাজ্জাদুল মিরাজ। প্রায় তিন মাস কারাগারে থাকার পর মুক্তি পান। এরপর আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন তিনি। তার রাজনৈতিক জীবনে রয়েছে ২৮১টি মামলা, চারবার রিমান্ড, সাতবার গ্রেপ্তার এবং দুইবার গুমের অভিযোগ।
২০১৭ সালে শাহ আলী থানা যুবদলের সভাপতি এবং ২০২১ সালে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পান তিনি। পরে সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে দলীয়ভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান। বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সহকর্মীদের মতে, মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের পাশে থাকার কারণেই সংগঠনের ভেতরে তার গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। নিজের রাজনৈতিক জীবন নিয়ে সাজ্জাদুল মিরাজ বলেন,“রাজনীতি আমার কাছে ক্ষমতার বিষয় নয়, এটা আদর্শের জায়গা। অনেক কিছু হারিয়েছি, কিন্তু রাজপথ ছাড়িনি।”
এফপি/এমআই