গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেছেন, সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক খাল পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষকরা সেচের জন্য পর্যাপ্ত পানি পাবে, পাট জাগ দিতে সুবিধা হবে এবং মাছ চাষসহ নানা কাজে খালের পানি ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, “সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন হলে কৃষি উৎপাদন ও কৃষকের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।”
মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নে দুটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উদ্বোধনকৃত প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে—গোয়ালন্দ নাজির উদ্দিন পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিশ্বনাথ পাড়া বেড়িবাঁধ পর্যন্ত ১ দশমিক ৬৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ খাল এবং উজানচর হাবিল মন্ডল পাড়া কালামের বাড়ি থেকে ফৈজদ্দিন মাতব্বর পাড়া সলিম মাতুব্বরের বাড়ি পর্যন্ত ০ দশমিক ৯৩০ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কাজ।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজবাড়ীতে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ প্রকল্পটি বুধবার একনেক সভার কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, “একনেকে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন পাবে। পাশাপাশি দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের মেগা প্রকল্পও সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী উভয় প্রকল্প বাস্তবায়নে আন্তরিক।”
তিনি আরও বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, শিল্প, যোগাযোগ এবং সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে, যাতে তারা সহজে সার, বীজ ও কীটনাশক সংগ্রহ করতে পারেন। রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে পর্যায়ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখনন করা হবে বলেও জানান তিনি।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ইজিপি কর্মসূচির আওতায় এ খাল পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে বিশ্বনাথ পাড়া বেড়িবাঁধমুখী খাল পুনঃখননে ব্যয় ধরা হয়েছে ২১ লাখ ৬৭ হাজার ১৭২ টাকা এবং হাবিল মন্ডল পাড়া থেকে সলিম মাতুব্বরের বাড়ি পর্যন্ত খাল পুনঃখননে ব্যয় হবে ২৭ লাখ ৭ হাজার ৮৯০ টাকা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. তারিফ-উল-হাসান, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবু বকর, উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলজার হোসেন মৃধা, ছোট ভাকলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমজাদ হোসেন, জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নঈম আনছারী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. নিজাম উদ্দিন শেখ, সাধারণ সম্পাদক মোশারফ আহমেদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী খালের আশপাশে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করেন।
এফপি/জেএস