মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় একটি খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে গড়ে তোলা অবৈধ মাটির বাঁধ স্থানীয় সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে উচ্ছেদ করে খালটি দখলমুক্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে উপজেলার বাউশিয়া বড়কান্দী এলাকায় মেঘনা নদীর সংযোগ গাদি কাঁটা খালের ওপর নির্মিত মাটির বাঁধ এস্কেভেটর মেশিন দিয়ে অপসারণ করতে দেখা যায়। এ সময় খালের দুই পাশে ফেলে রাখা মাটির স্তূপ সরিয়ে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করার কাজ চলমান ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি কোম্পানি খালের মুখ বন্ধ করে বাঁধ নির্মাণ করায় পানি চলাচল সম্পূর্ণ ভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। এতে আশপাশের কৃষিজমি ও গ্রামীণ এলাকায় জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয় এবং কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি দেখা দেয়। পরে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে মুন্সীগঞ্জ-৩ (সদর-গজারিয়া) আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তার হস্তক্ষেপে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি বাঁধ অপসারণের উদ্যোগ নেয় এবং খালের স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরুদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করে জানান, খালটি দখলমুক্ত হওয়ায় এখন পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক থাকবে এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে। তারা স্থানীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তার হস্তক্ষেপের কারণেই দ্রুত সময়ে খালটি পুনরায় সচল করা সম্ভব হয়েছে, যা এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই লাঘব করবে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান সাহারা ট্রেডিং লিমিটেড এর প্রজেক্ট ম্যানেজার আলী আহম্মদ জানান, এটি স্থায়ী বাঁধ ছিল না। প্রকল্প কাজ চলমান থাকায় শ্রমিকদের চলাচলের সুবিধার্থে সাময়িক ভাবে অস্থায়ী বাঁধ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে তা অপসারণ করা হচ্ছে এবং সেখানে একটি ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন বলেন, খাল, কৃষিজমি কিংবা সরকারি জায়গা দখল করে কেউ অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবে না। স্থানীয়দের অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এফপি/জেএস