নেছারাবাদে দক্ষিণ-পূর্ব সোহাগদল সালেহীয়া এতিমখানাকে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজ্বি মো. রফিকুল ইসলাম।
লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী একটি এতিমখানার নিবন্ধনের জন্য কমপক্ষে ৩৩ শতাংশ জমি থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু দক্ষিণ-পূর্ব সোহাগদল সালেহীয়া এতিমখানার নামে কোনো নিজস্ব সম্পত্তি নেই। যে জমির ওপর প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে, সেটি স্থানীয় একটি জামে মসজিদের সম্পত্তি বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি অনুমোদন নিতে একটি জাল দলিল তৎকালীন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রায় ৩০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এতিমখানাটি ২০০৬ সালে সরকারি নিবন্ধন লাভ করে। এরপর থেকে বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আসছে। আমি ২০২৩/২৪ সালে যখন এতিমখানার সাধারণ সম্পাদক হই তখন এই অনিয়ম গুলো ধরা পড়ে। তবে প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো বৈধ সম্পত্তি না থাকায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে এতিমখানার পাশেই অবস্থিত একটি ইবতেদায়ী মাদ্রাসার জমির মালিকানা নিয়েও বিরোধ দেখা দিয়েছে। ইবতেদায়ী মাদ্রাসার জমির দাবিদার মো. শহিদ মিস্ত্রী, সুলতান ও রুবেল গং অভিযোগ করে বলেন, জমিটি তাদের সকলের মালিকানাধীন। তারা জানান, দুই বছর আগে হাশেম পেয়াদা মাদ্রাসাটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিলেও এখনো তা করা হয়নি। এছাড়া সেখানে থাকা একটি মেহগনি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগও করেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে এতিমখানার সভাপতি মো. হাশেম পেয়াদার ছেলে মকবুল হোসেন বলেন, এতিমখানার নামে কত শতাংশ জমি রয়েছে তা তিনি নিশ্চিতভাবে বলতে পারবেন না। কাগজপত্র দেখে পরে জানাতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জানান, এতিমখানার জমি সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এফপি/জেএস