“আমার পুলাডারে ৫ বছরের জেল দেন স্যার, হের জ্বালায় আমরা আর বাঁচতে পারছি না। ঘরের সব শেষ কইরা,বাইরে চুরি করে। প্রতিদিন বিচার আহে। শরমে মুখ দেহাইতে পারি না।”
এভাবেই স্থানীয় আঞ্চলিক ভাষায় গত এক সপ্তাহ যাবত মাদকাসক্ত আবু কাউসার (১৯) কে সাজা দিয়ে জেলে দেয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তারিকুল ইসলামের কাছে আকুতি জানাচ্ছিলো ভুক্তভোগী আবু কাউসারের মা-বাবা।
অবশেষে, মাদকসেবির মা-বাবার কথা রাখলেন ইউএনও। তার (ইউএনও) পরামর্শনুযায়ী মাদক সেবনের অপরাধে মাদকাসক্ত সন্তানকে প্রশাসনের হাতে তুলে দিয়েছেন বাবা-মা। গতকাল শুক্রবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার পাহাড়িয়াকান্দি ইউনিয়নের জয়কালিপুর গ্রামে।
মাদকাসক্ত ওই তরুনের নাম আবু কাউসার (১৯)। সে উপজেলার ঐ গ্রামের দিনমজুর পরশ মিয়ার ছেলে। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।
রোববার দুপুরে এ কারাদণ্ড প্রদান করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তারিকুল ইসলাম ।
এ প্রসঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, “মাদকাসক্ত আবু কাউসার কারণে দীর্ঘদিন ধরে দরিদ্র পরিবারটিতে অশান্তির সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানান পরশ মিয়া দম্পতি।
তার নেশার কারনে পরিবারটি আজ নিঃস্ব। মাদক সেবনের টাকার জন্য প্রতিদিন কোন না কোন এলাকায় চুরি করতো।ধরাও পড়তো।উপায়ন্তর না পেয়ে পরিবারটি আমার কাছে আসে।বাবা-মা দাবী ছিলো ছেলেকে ৫ বছরের সাজা দিয়ে জেলে পাঠানোর । আমি ১ বছরের সাজা দিয়ে জেলে পাঠিয়েছি। এটা সমাধান না।মাদকের ভয়াবহতা এর মাধ্যমে ফুটে উঠেছে। মাদককে না বলতে হবে।মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ, প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে”।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল (৮মে) শুক্রবার দুপুরে উপজেলার পাহাড়িয়াকান্দি এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা পরশ মিয়া দম্পতি তাদের সন্তান আবু কাউসারকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের হাতে তুলে দেন। সে বাড়িতে প্রতিনিয়ত মাদক সেবন করে। মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে পরিবারের লোকজনের ওপর অত্যাচার করে আসছে দীর্ঘদিন যাবত। তার বাবা-মায়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে মাদকসহ হাতেনাতে আটক করে। ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় মাদক সেবনের অপরাধে কাউসারকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো ইয়াসিন জানান, আজ থানা পুলিশ কারাদণ্ডপ্রাপ্ত কাউসারকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে।
আবু কাউসারের মা জানান, হাজার নিষেধ করার পরেও আমার ছেলে মাদক সেবন বন্ধ না করায় বাধ্য হয়ে আমাকে প্রশাসনের সাহায্য নিতে হয়েছে। তার যন্ত্রণায় সারাক্ষণ অস্থির থাকি।
ছেলেটা ৯ বছর বয়সে শুরুতে গাঁজা, এরপর ইয়াবা সেবন করে আসছে। আমার তো সে ছাড়া আরো ২সন্তান রয়েছে। কাউসারের জন্য তারাও মানসিক কষ্টে আছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, “মাদকের টাকার জন্য এমন কোন কাজ নেই, যা সে করতে পারে না।চুরি, ছিনতাই, তাঁর মা বাবার উপর মানসিক- শারীরিক নির্যাতন সবই সে করতো। ছেলেটাকে ভাল করার সব কিছু করেছে। শেষমেশ ইউএনও স্যার জেলে পাঠিয়ে একটা ভাল কাজ করেছে।”
এফপি/অ