ডুমুরিয়ায় অগ্নিদগ্ধ গৃহবধু বিথি বেগমের (২৬) মৃত্যু হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে গতকাল বুধবার বিকালে ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। পারিবারিক করবস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়। তবে ঘটনার পর থেকে তার স্বামী নিখোঁজ রয়েছে। নিহত উপজেলার শাহাপুর গ্রামের গাজী পাড়ার অপুর গাজীর মেয়ে।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ মিকশিমিল গ্রামে তার গায়ে পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
স্থানীয় একটি সূত্রে জানা গেছে, বিথি বেগম ও জনি গাজী দম্পত্তির দু'টি পুত্র সন্তান রয়েছে। তাদের একজনের বয়স ৬ বছর অপর জনের বয়স ২ বছর। গত মঙ্গলবার পারিবারিক কলহের কারণে বিথি বেগমের শরীরে স্বামী জনি গাজী পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তার শরীরের অধিকাংশ দগ্ধ হয়।
প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরে খুমেকে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়। কিন্তু পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়। পরে তাকে খুলনায় নিয়ে আসে পরিবারের সদস্যরা।
ডুমুরিয়া থানার ওসি তদন্ত মো: আসের আলী জানান, পারিবারিক কলহের কারণে ঘটনার সূত্রপাত হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন তিনি। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার থানায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি। স্বামী জনি গাজী ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত তিনি জানেন না। জানার জন্য রঘুনাথপুরের ক্যাম্প ইনচার্জ হাসানের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি।
ক্যাম্প ইনচার্জের সাথে যোগাযোগ করা হলে ঘটনার সম্পর্কে তিনি বলেন, ঘটনার দিন দুপুর পর্যন্ত নিহতের স্বামী জনি গাজী তাদের সাথে ছিল। তাছাড়া নিহতের জা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। তার কোনো মোবাইল নেই। তার সাথে কোনো যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তার স্বামী গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে এমন কোনো প্রমানও পাওয়া যায়নি। নিহতের পরিবারকে থানায় অভিযোগ দেওয়ার কথা জানানো হলে তারা আলোচনা করে জানাবে বলে তাকে জানায়।
এদিকে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ডুমুরিয়া থানার ওসি তদন্ত মো: আসের আলী জানান, এখনো পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ মামলা নিয়ে থানায় আসেনি। বিথি বেগমের স্বামী জনি গাজিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এফপি/অ