বরিশালের বানারীপাড়ায় একটি সিআর (C.R) মামলায় সাজাপ্রাপ্ত দীর্ঘদিনের পলাতক এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম মোঃ সাকিবুল ইসলাম। পুলিশের এই অভিযানে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
থানা সূত্রে জানা গেছে, বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মজিবুর রহমানের দিকনির্দেশনায় পুলিশের একটি বিশেষ টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সাকিবুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে আদালত পূর্বেই ০৮ (আট) মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৮ (আট) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছিলেন। কিন্তু রায়ের পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলছিলেন।
পুলিশ জানায়, আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে পরিচালিত এ অভিযানে অবশেষে তাকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার কারণে তিনি বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, “সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় হেফাজতে রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
এদিকে, স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাটি পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে হয়েছিল। ফলে তার বিরুদ্ধে আদালতের রায় কার্যকর করতে এতদিন বিলম্ব হওয়া এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তৎপরতার অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আদালতের রায় ঘোষণার পরই যথাযথভাবে ব্যবস্থা নিলে আসামিকে এতদিন পলাতক থাকতে হতো না। তারা মনে করছেন, প্রশাসনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আরও সক্রিয় ভূমিকা থাকলে আইন বাস্তবায়ন আরও দ্রুত ও কার্যকর হতে পারত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, “আইন সবার জন্য সমান—এটি বাস্তবে দেখতে চাই। দীর্ঘদিন ধরে সাজাপ্রাপ্ত আসামি পলাতক থাকা উদ্বেগজনক। সংশ্লিষ্ট দপ্তরেরও এ বিষয়ে দায়িত্বশীল হওয়া উচিত ছিল।”
এ বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর বরিশালের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকে মনে করছেন, এখন সময় এসেছে এই ঘটনার সার্বিক তদন্ত করে দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করার।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু পুলিশি অভিযান নয়, বরং সংশ্লিষ্ট সব সরকারি দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। অন্যথায় বিচারপ্রাপ্তির প্রক্রিয়া বিলম্বিত হবে এবং জনমনে আস্থাহীনতা তৈরি হতে পারে।
বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃত সাকিবুল ইসলামকে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তার সাজা কার্যকর করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর প্রত্যাশা—আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত হবে এবং ভবিষ্যতে কোনো সাজাপ্রাপ্ত আসামি যেন দীর্ঘদিন পলাতক থাকতে না পারে, সে জন্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
এফপি/অ