গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত না হলেও নদনদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সিলেট বিভাগের হাওড়াঞ্চলে বন্যা অব্যাহত রয়েছে। সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার- এই পাঁচ জেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল এখনো পানির নিচে। এতে বোরো ধান ও সবজি নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, হাওড় বেসিনের নয়টি নদীর ১১টি পয়েন্টে পানি প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল সকাল ৯টার পর্যবেক্ষণে এই চিত্র পাওয়া গেছে। সংস্থাটি জানায়, দেশের ৪৬টি পানি সমতল পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৫টিতে পানি বেড়েছে এবং ১১টিতে কমেছে।
মাঠপর্যায়ে দেখা গেছে, আগাম বন্যায় অনেক কৃষকের ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোমর পানিতে নেমে কৃষক ভেজা ধান কেটে আনছেন, কিন্তু রোদ না থাকায় তা শুকাতে পারছেন না। অন্যদিকে শ্রমিকসংকট এতটাই তীব্র যে দ্বিগুণ মজুরি দিয়েও ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। পানিতে ডুবে থাকা জমিতে কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহারও সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পাকা ফসল জমিতেই নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। নদীর পানি বৃদ্ধির সর্বশেষ চিত্রে দেখা যায়, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ স্টেশনে কুশিয়ারা নদীর পানি ২২ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জের মারকুলি স্টেশনে একই নদীর পানি ৮ সেন্টিমিটার এবং জগন্নাথপুরে নলজুর নদীর পানি ৪৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।
নেত্রকোনায় ধনু-বাউলাই নদীর পানি খালিয়াজুরি পয়েন্টে ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সোমেশ্বরী নদীর পানি কিছুটা কমলেও এখনো বিপৎসীমার ৪২ সেন্টিমিটার ওপর রয়েছে। ভোগাই-কংস নদীর পানি কমে এলেও জারিয়া- ঝাঞ্জাইল পয়েন্টে তা বিপৎসীমার ৫১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। মগরা নদীর পানি নেত্রকোনা পয়েন্টে ৮৭ সেন্টিমিটার এবং আটপাড়া পয়েন্টে ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। হবিগঞ্জে কালনি নদীর পানি আজমিরিগঞ্জ পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার এবং সুতাং নদীর পানি সুতাং রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে ৬৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
মৌলভীবাজারে মনু নদীর পানি ২৪ ঘণ্টায় ১১০ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। সুনামগঞ্জের হাওড় এলাকায় নদীর পানি ঘণ্টায় শূন্য থেকে ১ সেন্টিমিটার হারে বাড়ছে, যা ধীরগতির হলেও দীর্ঘস্থায়ী প্লাবনের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ভারতের মেঘালয় ও আসাম অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত না থাকলেও উজানের পানিপ্রবাহ ও স্থানীয় বৃষ্টির প্রভাবে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানায়, আগামী তিন দিনে হবিগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। তবে নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের ধনু-বাউলাই অববাহিকায় পরিস্থিতি আরও অন্তত দুই দিন অপরিবর্তিত থাকতে পারে। একইভাবে নেত্রকোনার ভোগাই-কংস অববাহিকার হাওড়সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা অব্যাহত থাকতে পারে।
সিলেট ও সুনামগঞ্জে সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি আগামী দুই দিনে আরও বাড়তে পারে। এতে কুশিয়ারা-তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, কৃষকদের জন্য জরুরি সহায়তা এবং বিকল্প ফসল সংরক্ষণ ও শুকানোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষি সংশ্লিষ্টরা।
এফপি/অ