সৌদিআরবে জীবিকার তাগিতে গিয়ে ২২ দিন ধরে নিখোঁজ রুবেল মন্ডল ( ২১) নামে এক প্রবাসী যু্বক। এতে চরম উৎকণ্ঠায় দিন পার করছে রুবেলের পরিবারের লোকজন ও স্বজনরা।
রুবেল মন্ডলের বাড়ি জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলা জোড়খালী ইউনিয়নের দিঘলকান্দি গ্রামে। সেই ওই এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে।
পরিবার সুত্র জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে এ বছরের ২৭ জানুয়ারী স্থানীয় এক দালাল ও ইরাকি এয়ারওয়েজ এজেন্সির মাধ্যমে সৌদিআরবে পাড়ি জমায় রুবেল। সেখানের মক্কা শহরের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে কাজ করতেন। স্বাভাবিকভাবেই বাড়িতে যোগাযোগ করতেন ও বেতন পাঠানোও শুরু করেন। গত ১৬ এপ্রিল বিকেল থেকে তার আর খোঁজ মিলছে না। সর্বশেষ বিকেল ৪টার দিকে দেশে থাকা তার মা মনোয়ারার সাথে ভিডিও কলে কথা হয়। এরপর থেকেই তার সাথে আর যোগাযোগ নেই। তার ব্যবহৃত ইমো,ফেসবুক,মেসেঞ্জারসহ সকল যোগাযোগ মাধ্যম অফলাইন দেখা যাচ্ছে। রুবেল মন্ডলের নিখোঁজের পর থেকেই চরম উৎকণ্ঠায় দিন পার করছে তার পরিবার।
২২ দিনেও খোঁজ না পেয়ে হতাশ তার পরিবার। মঙ্গলবার ( ৫ মে) দুপুরে সরজমিনে রুবেলের গ্রামের বাড়িতে গেলে মা মনোয়ারা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার আদরের ছোট ছেলে রুবেল৷ তাকে আমরা শখ করে বিদেশ পাঠাইছি। আজকে ২২ দিন ধরে তার খোঁজ নেই। সে কেমন আছে কোথায় আছে। আমরা কেউ জানিনা। আমি মা আমার হৃদয় ভেঙে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। আপনারা আমার ছেলের সন্ধান দিন। সরকারের কাছে আমার ছেলের খোঁজ চাই।
বড় ভাই মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, আমরা ৪ ভাই। রুবেল সবার ছোট। সবাই আমরা তাকে আদর করতাম। সে আজ ২২ দিন যাবত তার খোঁজ নেই। আমরা কোন অবস্থায় তা বলে বুঝাতে পারবো না। প্রবাসী মন্ত্রণালয় ও সৌদিআরবে নিযুক্ত বাংলাদেশী দূতাবাসের কাছে একটি আবেদন যে আমার আদরের ছোট ভাই কোথায় আছে। আর কোন অবস্থায় আছে আমরা যেন সঠিকভাবে জানতে পারি।
চাচাতো ভাই শাহআলম ইসলাম লালন বলেন, আমাদের চাচাতো জেঠাতো ৯ ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট রুবেল। তার এই নিখোঁজের খবরে আমরা কেউ ভালো নেই। আমরা তার সন্ধান চাই। মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) সুমন চৌধুরী মুঠোফোনে বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে জেনেছি, সৌদিআরবে মাদারগঞ্জের একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা রুবেল মন্ডল গত ২২ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। প্রাথমিকভাবে পরিবারের প্রতি আমার বার্তা তারা যেন দূতাবাসে যোগাযোগ করেন। যাতে তার অবস্থানটি কোথায় জানার চেষ্টা করা যায়। সে ক্ষেত্রে আমাদের ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো যেন পরিবারটিকে সহযোগিতা করার জন্য যেন দূতাবাসকে চিঠি দেয়।
এফপি/জেএস