১৯৭১ সালের ৫ মে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলে শহীদদের স্মরণে আয়োজিত স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং তাদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করা হয়।
মঙ্গলবার (৫ মে ) সকালে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল-এর শহীদ সাগর চত্বরে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল।
তিনি বলেন, নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলকে পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করতে পারলে এ অঞ্চলে নতুন কর্মসংস্থানের দ্বার উন্মোচিত হবে। মিলটিকে শুধু চিনি উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে অতীতে পরিচালিত বিভিন্ন বায়ো-প্রোডাক্ট কার্যক্রম পুনরায় চালু করা গেলে এর সম্ভাবনা আরও বাড়বে। এতে স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশ। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে হবে এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে হবে।
মিলের সার্বিক উন্নয়নের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা চাকরি দেওয়ার নামে চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না। তিনি নিজেকে এলাকার সন্তান হিসেবে উল্লেখ করে মিলের উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন ফরহাদুজ্জামান রুবেল, মামুন ও শাহিন। তারা অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও শহীদ সাগরের শহীদরা এখনো যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাননি। দ্রুত তাদের সরকারিভাবে তালিকাভুক্ত করে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান তারা।
নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদ হোসেন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুলহাস হোসেন সৌরভ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হারুনার রশিদ পাপ্পু, যুগ্ম আহ্বায়ক সিদ্দিক আলী মিষ্টু, গোপালপুর পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম মোল্লা, লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মিলের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা।
শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
এফপি/জেএস