গরমে হাঁসফাঁস করা দিনের পর হঠাৎ বৃষ্টি নামলে অনেকেরই মন ফুরফুরে হয়ে ওঠে। এই অনুভূতি কেবল আবেগের বিষয় নয়, এর পেছনে কিছু বৈজ্ঞানিক কারণও রয়েছে বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন গবেষণা। এতে বলা হয়েছে, বৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত কিছু উপাদান মানুষের শরীর ও মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বৃষ্টিতে ভেজা বা বৃষ্টির পরিবেশে থাকা কেন ভালো লাগতে পারে, তার চারটি কারণ তুলে ধরেছেন গবেষকেরা।
মেজাজ ভালো করে
বৃষ্টির সময় বাতাসে নেগেটিভ আয়ন তৈরি হয়, যা মস্তিষ্কে সেরোটোনিনের মাত্রা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। এতে মন ভালো থাকে, দুশ্চিন্তা কমে এবং স্বস্তি অনুভূত হয়। ফলে বৃষ্টির মধ্যে হাঁটা বা বৃষ্টির পরিবেশে থাকা অনেক সময় মানসিক স্বস্তি এনে দেয়। যদিও এ প্রক্রিয়ার সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়, তবু বিভিন্ন গবেষণায় এর ইতিবাচক প্রভাবের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
বাতাসকে করে পরিষ্কার
বৃষ্টির ফোঁটা বাতাসে ভাসমান ধুলা, জীবাণু ও অ্যালার্জেনকে নিচে নামিয়ে আনে। ফলে বৃষ্টির পর বাতাস তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার হয়ে যায়। এতে শ্বাস নিতে সুবিধা হয় এবং দূষণজনিত অস্বস্তিও কমে।
গন্ধ জাগায় স্মৃতি
বৃষ্টির পর মাটির যে বিশেষ গন্ধ পাওয়া যায়, তাকে বলা হয় ‘পেট্রিকর’। এই গন্ধ মানুষের মস্তিষ্কের আবেগ ও স্মৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত অংশকে সক্রিয় করতে পারে। ফলে অনেক সময় বৃষ্টির গন্ধ পুরোনো স্মৃতি বা অনুভূতি ফিরিয়ে আনে।
শব্দে মেলে প্রশান্তি
বৃষ্টির টুপটাপ শব্দ স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করতে সাহায্য করে। অনেকেই বৃষ্টির শব্দকে প্রাকৃতিক ‘হোয়াইট নয়েজ’ হিসেবে ব্যবহার করেন। গবেষকেরা বলছেন, এ ধরনের প্রাকৃতিক শব্দ শরীরের স্ট্রেস কমায় এবং বিশ্রামের অনুভূতি তৈরি করে। অনেকে ঘুমের আগে বৃষ্টির শব্দ শুনে স্বস্তি পান।
গবেষকেরা বলছেন, বৃষ্টির এসব উপকার পেতে বাইরে গিয়ে ভেজার প্রয়োজন না হলেও, নিরাপদ অবস্থায় বৃষ্টির পরিবেশ উপভোগ করা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে বজ্রপাত বা ঝড়ের সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
এফপি/অ