সিলেটের সড়ক দূর্ঘটনার সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা আজির উদ্দিন ও আমির উদ্দিন নামে সহোদর দুই ভাই নিহত হয়েছে। এই ঘটনায় পর থেকে নিহতের পরিবারে শোকের মাতম চলছে।
ছেলে হারানোর আর্তনাদ আর আহাজারি বার বার মু্ছা যাছেন মা। পরিবারের একমাত্র উপার্জন ক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা পরিবারটি। শোকে স্তব্ধ একালা বাসী।
আজ রবিবার (৩ মে) ভোর ৬ টার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের (সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলা) তেলিবাজার এলাকা তারা একটি ডিআই পিকআপ ও কাঁঠালবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষের পিকআপ ও ট্রাকের সংঘর্ষ ঘটনাস্থলে আজির উদ্দিন ও আমির উদ্দিন সহোদর দুই ভাই নিহত হয়।
তারা সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা মুক্তিখলা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল গফফারের ছেলে। নিহত আজির উদ্দিনের তিন ছেলে মেয়ে রয়েছে। নিহত আজির উদ্দিনের তিন ছেলে মেয়ে রয়েছে।
আজির উদ্দিনের আত্নীয় সিয়াম মিয়া জানান, সকালে তারা ডালাইয়ের কাজ করার জন্য বের হয়। পরে সুনামগঞ্জের উদ্দেশ্য রওনা হলে সড়ক দূর্ঘটনার শিকার হয়। তার দুই ভাই এই পরিবারের একমাত্র উপার্জন ক্ষম ব্যক্তি ছিলো। বাবা মা অসুস্থ। এক বারেই গরীব পরিবার।
নিহত আজির উদ্দিনের স্ত্রী জানান, গত ৬ মাস ধরে ডাইয়ের কাজ করে। গত ঈদে বাড়ি আইছিল আর বাড়ি আসে নাই। আগামী ঈদে বাড়ি আইলনে। আজকে সড়ক দূর্ঘটনার মারা গেছে। আমারে সাগরে ভাসাইয়া দিয়া গেছে।
আমার ছোট ছোট তিনটি সন্তান নিয়ে আমি কি করমু।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মতিন খান জানান,ঘটনাটি খুবই হৃদয়বিধাক ঘটনা। একেই পরিবারের দুই জন্য আর তারা পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল ব্যক্তি ছিলো।
উল্লেখ্য,সিলেটের দক্ষিণ সুরমার তেলিবাজারে ট্রাক ও ডিআই পিক-আপের সংঘর্ষে নিহত ৮ জনের পরিচয় মিলেছে। তাদের মধ্যে ছয় জনই সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। নিহতের মধ্যে দুই নারী ও সহোদর রয়েছেন।
নিহতরা হলেন, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্বরপুরের দুই ভাই আজির উদ্দিন ও আমিরউদ্দিন, ধর্মপাশার সরিষা গ্রামের নার্গিস আক্তার, দিরাইয়ের সেচনী গ্রামের মোছা. মুন্নি বেগম, দিরাই ভাটিপাড়া গ্রামের নুরুজ আলী, ভাটিপাড়া নূর নগরের ফরিদুল ইসলাম, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের শিবপুর গ্রামের পাণ্ডব বিশ্বাস ও পুটামারা গ্রামের বদরুজ্জামান।
এ দুর্ঘটনায় আরও অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। আহতদের ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার আমকান্দি গ্রামের রফিক মিয়ার ছেলে মো. আলমগীর (৩২), সিলেট নগরের কালিবাড়ি এলাকার মৃত শুকুর উল্লাহর ছেলে তোরাব উল্লাহ (৬০), আম্বরখানার লোহারপাড়ার মৃত আলিম উদ্দিনের ছেলে রামিন (৪০) ও একই এলাকার মল্লিক মিয়ার ছেলে আফরোজ মিয়া (৪০), সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার গাছতলা গ্রামের খোকন মিয়ার মেয়ে রাভু আক্তার (২৫), সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পাউমারা গ্রামের বদরুজ্জামানের মেয়ে হাফিজা বেগম (৩০) এবং দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়ার জফুর আলীর ছেলে রাজা মিয়া (৪৫)। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহতরা সবাই নির্মাণ শ্রমিক।
এফপি/জেএস