যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিতে গিয়ে মাদারীপুরের মেয়ে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির হত্যাকাণ্ডের ঘটনার খবর পেয়ে তার গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরে লোকজন ভীর করছেন।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মেধাবী ছাত্রী বৃষ্টির মৃত্যুর খবরটি তারা কেউ মেনে নিতে পারছেন না। তারা অপরাধীদের শাস্তির দাবী জানিয়েছেন।
নিহত নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দুপুরের এটিএম বাজার এলাকার জহির উদ্দিন আকনের মেয়ে। মা আলভী বেগম। বৃষ্টি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় (ইউএসএফ) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পিএইচডি পড়ছিলেন। তিনি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী।
আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দুপুরের এটিএম বাজার এলাকার জহির উদ্দিন আকন বহু বছর ধরে ঢাকার মিরপুরে থাকেন। গ্রামের বাড়িতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও ঈদ-উল-আযহার সময় সবাই গ্রামের বাড়িতে আসতেন। মিড লাইফ ইন্সুরেন্সে ম্যানেজার পোষ্টে চাকুরী করেন বৃষ্টির বাবা। বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান ইঞ্জিনিয়ার। বৃষ্টিও ছিলেন প্রচন্ড মেধাবী। তাই উচ্চ শিক্ষা নেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান।
শনিবার সকালে তার পরিবার বৃষ্টির নিহতের খবর জানতে পারেন। এরপর তার গ্রামের বাড়িতে সেই খবর পৌছালে আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশি ভীড় করেন। তাদের মধ্যে শোক নেমে আসে। তারা কেউ মেধাবী এই বৃষ্টির মারা যাওয়া কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। তাদের দাবী দ্রুত বৃষ্টির লাশ খুজে বের করে দেশে আনা হোক। পাশাপাশি অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।
বৃষ্টির চাচাতো বোন তুলি আকন বলেন, বৃষ্টি আপু অনেক মেধারী ছিলেন। অনেক ভালো ছিলেন। গতকাল সকালে জাহিদ ভাইয়া (বৃষ্টি বড় ভাই) তার ফেসবুকে আপু মারা যাওয়া নিয়ে পোস্ট দেন, তা দেখে আমরা প্রথমে জানতে পারি। তবে এর আগে থেকেই আপু নিখোজ ছিলেন। কিভাবে, কেন তাকে হত্যা করা হলো, তা আমরা কিছুই জানিনা। তার এক সহপাঠীকেও হত্যা করা হয়েছে। শুনেছি তার লাশ পাওয়া গেছে। কিন্তু আপুর লাশ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।
নিহত বৃষ্টির চাচা দানিয়াল আকন বলেন, বৃষ্টি অনেক মেধাবী ছিলো। সে বেচে থাকলে হয়তো দেশের জন্য ভালো কিছু করতে পারতো। কিন্তু তার আগেই তাকে হত্যা করা হলো। আমরা এই হত্যার বিচার চাই।
নিহতের বাবা জহির উদ্দিন আকনের বরাত দিয়ে তার চাচা আরো বলেন, ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যায় বৃষ্টি। ফ্লোরিডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতো। সব শেষ গত ১৬ এপ্রিল বৃষ্টির সাথে পরিবারের কথা হয়। এরপর থেকেই বৃষ্টি নিখোঁজ। পরবর্তীতে বৃষ্টি ও তার সহপাঠীর মৃত্যুর খবর আসে।
নিহতের চাচা দানিয়াল আকন আরো বলেন, আমাদের মেয়ে আর বেঁচে নেই। এটা আমরা নিশ্চিত হয়েছি। তার মরদেহ উদ্ধার করে দেশে আনার দাবি জানাই। দোষীদের শাস্তি চাই।
মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াদিয়া শাবাব বলেন, আমি বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি বৃষ্টি নামে মাদারীপুরের এক শিক্ষার্থী আমেরিকা মারা গেছে। এ ক্ষেত্রে মূল কাজ করবে দূতাবাস। আমার কাছে তার পরিবার যদি কোন সহযোগিতা চান, আমি সেটা করবো। দূতাবাস যদি স্থানীয় কোন তথ্য চায় সেটাও দিবো।
এফপি/জেএস