“এটি একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষ। এখানেই প্রথম শ্রেনীর শিশুদের চলমান তাপদাহ ও লোডশেডিং এর মধ্যে ক্লাশ করানো হচ্ছে। আমি এসেছিলাম আমার শিশু সন্তানকে দেখতে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে বারোটায় এসে দেখি ক্লাশ ফাঁকা। ফ্যান, বিদ্যুৎ না থাকায় বাচ্চারা গরমের হাত থেকে বাঁচার জন্য ক্লাশের বাইরে চলে গেছে”। এভাবেই নিজের অনুভূতি জানাচ্ছিলেন ১ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক শিরিন শিলা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নের পাড়াতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে (পশ্চিম) ছোট্ট টিনের কক্ষে ক্লাশ লোডশেডিং এর গরমে করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মূল ভবনের বর্ধিত অংশের টিনের ঘরটি তৈরী করা হয়েছে কয়েক বছর আগে।
দেখা গেছে মূল বিল্ডিংয়ের সাথেই চলছে টিনের ঘরে পাঠদান। বেঞ্চ ভাঙ্গা। নেই ছাউনি। নেই বিদ্যুৎ সংযোগ। বিদ্যালয়টির শ্রেণীকক্ষ টিনের ঘরে হওয়ায় গরমে তা চুল্লির মতো হয়ে ওঠে।
স্কুলটির প্রধান শিক্ষক রুজি আক্তার জানান, মূল ভবনের বাইরের এই টিনের কক্ষে ফ্যান, লাইট বা ছাউনি দেয়া হয়নি।
মূল ভবন থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়নি, শুধু চোরের কারনে। তারা ফ্যান, লাইট, বেঞ্চ এমনকি বৈদ্যুতিক তার পর্যন্ত চুরী করে নিয়ে যায়। চোরদের অনেকেই মাদকসেবী। পাকা দালান থাকতে টিনের ঘর কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, মূল ভবনে প্রায় ৩ শত শিক্ষার্থীর জায়গা হয়না। তাই বাইরে টিনের ঘর বানানো হয়েছে। বর্তমান পাকা দালানের একটি অংশ ড্যামেজ হয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মাসুম পারভেজ বলেন, এলাকার সাংসদ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকির হস্তক্ষেপ কামনা করছি। বাঞ্ছারামপুর উপজেলার পাড়াতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (পশ্চিম )-এ চরম দুর্ভোগের মধ্যে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান- এটা সহ্য করার মতো নয়।
স্থানীয়রা জানান, অসহনীয় গরমে শিক্ষার্থীরা শ্রেণীকক্ষে বসে থাকতে পারছে না। অনেকেই বাইরে অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছে, ফলে পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে।
অভিভাবক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিনেও বিদ্যালয়টির কোনো অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। একটি আধুনিক ও পাকা ভবনের অভাবে ২৫০ হতে ৩ শ কোমলমতি শিক্ষার্থীরা মানবেতর কষ্টে শিক্ষা গ্রহণ করছে।
এ অবস্থায় এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি মাননীয় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি এর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তারা দ্রুত বিদ্যালয়ের জন্য একটি নতুন পাকা ভবন নির্মাণ এবং বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
স্কুলটিতে বর্তমানে ৬ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক জানান, ‘ফ্যান নাই, টিনের ঘরে ছাউনি নাই। বাচ্চাদের পাশাপাশি আমাদের ও ঐ ঘরে ক্লাশ নিতে কষ্ট হয়। আমরা লোডশেডিং এর সময় ঘেমে ভিজে যাই। স্কুলের মূল ভবন বর্ধিত করলে এর সমাধান সম্ভব।’
এবিষয়ে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো.আব্দুল আজিজ বলেন, “স্কুলটির এমন করুন দশা এটি আমার জানা ছিল না। আমি দ্রুত স্কুলটি প্রদর্শনে যাবো। ভবন সংস্কার করার ব্যবস্থা হবে।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার তারিকুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি জানলাম। আমি উর্ধতন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কে শিশুদের এই দূর্দশা থেকে লাঘবের জন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের উচিত নিয়মিত বিভিন্ন স্কুল ভিজিট করা।”
এফপি/জেএস