পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় বাল্যবিবাহ থেকে নিজেকে রক্ষা করে সাহসিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় তহমিনা আক্তার (১৭) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে সম্মাননা দিয়েছে পিরোজপুর জেলা প্রশাসন। আজ দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয় জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ তহমিনা আক্তারকে সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে সনদপত্র, ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ প্রদান করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তানজিলা কবির ত্রপা, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর উপপরিচালক মনিকা আক্তার, জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মো: হাফিজুর রহমান, তহমিনার মা আনোয়ারা বেগম।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, নারী শিক্ষায় বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। তহমিনা যে সাহসিকতা দেখিয়েছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তহমিনার এই সাহসিকতা দেখে যেন কোনো অভিভাবক আর অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে বাল্যবিবাহে উৎসাহিত না করেন এবং কেউ যেন নীরবে এমন অন্যায় মেনে না নেন সে বিষয়ে সকলের প্রতি আহ্বান জানাই।
উল্লেখ্য, তহমিনার পিতা-মাতা তার মতামতের বিরুদ্ধে বিয়ের আয়োজন করলে সে তাতে দৃঢ়ভাবে আপত্তি জানায়। পরিবারের চাপ সহ্য করতে না পেরে অবশেষে গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) সে জিয়ানগর থানায় আশ্রয় নেয়। হতদরিদ্র বাবা-মা তার অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে এক দুবাই প্রবাসীর সঙ্গে বিয়ের দিন ঠিক করেন।
তহমিনা জিয়ানগরের সেতারা স্মৃতি সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী এবং আলম হাওলাদার ও আনোয়ারা বেগম দম্পতির পাঁচ সন্তানের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ। বিয়েতে রাজি না থাকায় তহমিনা সাহসিকতার সঙ্গে সেদিন বাড়ি থেকে পালিয়ে জিয়ানগর থানায় আশ্রয় নেন। পরে থানা পুলিশের সহযোগিতায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মোঃ হাফিজুর রহমানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বাল্যবিবাহটি বন্ধ করা হয়।
এফপি/অ