দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে গণপরিবহনে অঘোষিতভাবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে এক জরুরি বিবৃতিতে সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম জানান, সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আগের নির্ধারিত ভাড়াই কার্যকর থাকবে। কোনোভাবেই যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা নেওয়া যাবে না।
গত ১৯ এপ্রিল থেকে দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর ঢাকাসহ সারা দেশে পরিবহন খাতে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। অনেক বাস চালক ও তাদের সহকারীরা নিজেদের ইচ্ছামতো ভাড়া বাড়িয়ে দেন, যা নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত বাগবিতণ্ডা ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবহন খাতের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মালিকদের পক্ষ থেকে এই কঠোর নির্দেশনা এল।
বিবৃতিতে সাইফুল আলম আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে ডিজেলে প্রতি লিটারে ১৫ টাকা বৃদ্ধি এবং ডলারের দাম বাড়ায় গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। পরিবহন মালিকরা চরম আর্থিক চাপের মুখে পড়েছেন। তাই যাত্রী ভোগান্তি কমাতে এবং পরিবহন খাতকে বাঁচাতে তিনি সরকারের প্রতি দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাড়া সমন্বয়ের বিশেষ আহ্বান জানান। মালিক সমিতির দাবি, খরচ বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করে যেন দ্রুত একটি যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয়।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বগতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল পাল্টাপাল্টি হামলার প্রভাবে সৃষ্ট অস্থিরতার কারণে সরকার দেশে তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ঘোষণা অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাঠ পর্যায়ে অভিযোগ উঠেছে যে, সরকারি প্রজ্ঞাপন ছাড়াই অনেক রুটে ভাড়া কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে মালিক সমিতির নতুন এই নির্দেশনার পর বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধ হবে বলে আশা করছেন সাধারণ যাত্রীরা। প্রশাসন থেকেও নজরদারি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে, যাতে কেউ এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করতে না পারে।
এফপি/অ