আমার আকাশ আমার হাতে। এই ধারণা এতদিন ছিল স্বপ্ন। অবশেষে ধরা দিয়েছে তা; আকাশ নিরাপত্তায় উত্তরোত্তর পরিবর্তন এনেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। সীমার গণনা, অধিকারের আয়ত্ত, নিরাপত্তা সক্ষমতাসহ অনেক কিছুই এলো বাংলাদেশের একক নিয়ন্ত্রণে।
পুরো বিষয়টি ঘটছে দেশের আকাশ সীমায় বিমান চলাচলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার নতুন আঙ্গিকে। এতে বাংলাদেশের আকাশের নিয়ন্ত্রণ থাকবে পুরোপুরি নিজেদের আয়ত্ত ও নজরদারিতে। এটি সম্ভব করেছে নতুন ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র।
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগে যে রাডার ও নেভিগেশন ব্যবস্থা ছিল, সেটি অনেক পুরনো। এটি নজরদারি করতে পারে না দেশের পুরো আকাশসীমায়। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরের অংশ। এতে আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল বাংলাদেশ।
বিমান চলাচলের নিয়ম অনুযায়ী, অন্য কোনো দেশের উড়োজাহাজ বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করলে দিতে হবে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি। কিন্তু দুর্বল রাডার ও নেভিগেশন ব্যবস্থার কারণে পুরোপুরি আদায় করা যায়নি সেই ‘ফ্লাইং ওভার চার্জ’।
নবনির্মিত এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সেন্টার চালুর ফলে এখন ঢাকা থেকে নজরদারি করা যাবে চারপাশের ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত। শনাক্তের আওতায় আসবে সব ফ্লাইট। আর চট্টগ্রামের রাডার এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় দেখা যাবে বঙ্গোপসাগরেও ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত। একই সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে ৪৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত চলাচলকারী ফ্লাইটের সঙ্গে।
প্রায় ৯৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন ও অত্যাধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা নির্মাণ করেছে বেবিচক। সংস্থাটির সদস্য (এটিএম) এয়ার কমডোর মো. নূর-ই-আলমের ভাষ্য, ‘এটি আমাদের জন্য গভীর সমুদ্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি উন্মুক্ত করেছে আরও বেশি রাজস্ব আয়ের সুযোগ।’
আজ সোমবার সকালে নতুন এ এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সেন্টার উদ্বোধন করলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জমান মিল্লাত, সচিব ফাহমিদা আখতার, বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জিন-মার্ক সেরে-শার্লে প্রমুখ।
আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালুর ফলে দেশের আকাশসীমা আরও নিরাপদ, দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হবে, আশা আফরোজা খানমের।
মিল্লাতের দাবি, দেশের আকাশসীমা ব্যবস্থাপনা অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ায় তৈরি হবে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও তথ্য আদান-প্রদানের নতুন সুযোগ।
নতুন ব্যবস্থার যৌক্তিকতা তুলে ধরলেন বেবিচক চেয়ারম্যান। আগের এয়ার কন্ট্রোল ব্যবস্থা প্রায় চার দশক এবং রাডার প্রায় ৩৫ বছরের পুরনো হওয়ায় আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর এটিম সিস্টেম, উন্নত রাডার এবং স্বয়ংক্রিয় সার্ভিলেন্স সিস্টেম স্থাপন হয়ে উঠে অপরিহার্য। ফ্রান্স সরকারের সহায়তায় জিটুজি ভিত্তিতে বাস্তবায়িত এ প্রকল্প বিমান চলাচল ব্যবস্থাপনায় এনেছে যুগান্তকারী পরিবর্তন—বর্ণনা দিলেন মোস্তফা মাহমুদ।
এফপি/অ