সারাদেশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে রাজশাহীর তানোর উপজেলায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ সকাল থেকে শুরু হল। এবারের পরীক্ষায় উপজেলায় মোট ১ হাজার ৬৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নেবে। তিনটি কেন্দ্রে একযোগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা সদরের তানোর সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৪৩৪ জন, মুন্ডুমালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৪০৪ জন এবং কলমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২৩১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবে।
এবারের পরীক্ষায় উপজেলার ১২৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বেসরকারি এনজিও ও কিন্ডারগার্টেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও অংশগ্রহণ করবে। পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত আসনব্যবস্থা, প্রশ্নপত্র সরবরাহ, নিরাপত্তা ও তদারকির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মতিউর ইসলাম শিশির বলেন, প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা বন্ধ হওয়ার পর ২০২২ সালে বৃত্তি পরীক্ষা চালু হলেও ২০২৩ ও ২০২৪ সালে তা অনুষ্ঠিত হয়নি। ২০২৫ সালের পরীক্ষার ঘোষণা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করলেও বছরের শেষে তা স্থগিত হওয়ায় অনেকে হতাশ হয়। পরে চার মাস পর পুনরায় পরীক্ষার সিদ্ধান্তে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে সরকারকে এ উদ্যোগ পুনরায় চালু করায় তিনি স্বাগত জানান।
লালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী মুনিরা বলে, নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা না হওয়ায় প্রস্তুতিতে বিঘ্ন ঘটে। অনিশ্চয়তার কারণে তারা ষষ্ঠ শ্রেণির পড়াশোনায় মনোযোগ দেয়। ফলে স্বল্প সময়ে আবার প্রস্তুতি নিতে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। তারপরও ভালো ফলের আশা করছে তারা।
তানোর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলেয়া ফেরদৌসী জানান, পরীক্ষাকে ঘিরে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দিতে পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাঈমা খান বলেন, পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রস্তুত থাকবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা দীর্ঘ বিরতির পর পুনরায় আয়োজন হওয়ায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষক—সবার মধ্যেই বাড়তি আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এবারের পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হবে।
এফপি/অ