বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধল ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড (বিএনপি) সভাপতি কবির হাওলাদারের বিরুদ্ধে পুকুরের মাছ লুটসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দখলবাজির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হলেও অভিযুক্ত এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ও তার সহযোগীরা দুধল ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের দত্তেরা বাদ গ্রামে গত ৩১ মার্চ সকালে সুলতানা হাওলাদারের বাড়ির পুকুরে জোরপূর্বক প্রবেশ করে মাছ ধরে নিয়ে যায়। এতে পুকুর মালিকদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
ভুক্তভোগী সুলতান হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি নেতা কবির হাওলাদার এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। স্থানীয় দুষ্কৃতকারী মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ে কবির একপি সমিতি গঠন করেছে। তারা এলাকায় বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। যদি তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করেন তাদের উপর তারা হামলা চালায়। এলাকার অনেক নিরীহ মানুষ কবিরের হামলা শিকার হয়েছে। আমি বাড়ির পুকুর আমার চাচির থেকে লিজ নিয়ে মাছ চাষ করেছিলাম। গত ৩১ মার্চ কবির তার দলবল নিয়ে এসে হঠাৎ করেই পুকুর থেকে জাল টেনে আমার মাছ নিয়ে যায়। তখন বাড়ির লোকজন প্রতিবাদ করলে আমার চাচি সহ আমার উপর হামলা চালায়। পরবর্তীতে আমরা চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাকেরগঞ্জ থানা একটি মামলা দায়ের করেছি। পুলিশ মামলা গ্রহণ করলেও এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি। যে কারণে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। উল্টো আসামিরা আমাদেরকে এখন হুমকি দিয়ে আসছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেফতারের দাবী জানান তিনি।
এই ঘটনায় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ৭ এপ্রিল বিকেল ৪ টায় দত্তেরা বাদ গ্রামে বিএনপির সভাপতি কবির পুকুরের মাছ লুট করার আসামি হয়েও তার লোকজন নিয়ে প্রকাশ্যে এলাকার ভুক্তভোগী পরিবারের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে। যে মানববন্ধনে প্রমাণ করে দেয় আসামিদের পক্ষেই রয়েছে পুলিশ। বিতর্কিত এই মানববন্ধন ঘটনায় এলাকা জুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। প্রকাশ্যে অপরাধ করেও তারা এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে, এমন ঘটনায় পুলিশের উপর মানুষের আস্থা হারিয়ে যাচ্ছে।
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে, দ্রুত আসামীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা না হলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এই ঘটনায় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি কবির হাওলাদার জানান, ওয়ার্ড বিএনপির কমিটি গঠনকে নিয়ে সুলতান হাওলাদারের সাথে দীর্ঘদিন থেকে তার সাথে বিরোধ চলে আসছে। পুকুরের মাছ লুট ঘটনা সাথে তিনি জড়িত নয়। সুলতান হাওলাদার তাকে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছে।
এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি খন্দকার সোহেল রানা জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এফপি/এমআই