প্রতিবছরের মতো এ বছরও পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটিতে বাংলা নববর্ষ বরণ উপলক্ষে সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। পার্বত্যাঞ্চলে বসবাসরত বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের প্রধান এই সামাজিক উৎসব।
এ কারণে নববর্ষের ১০ থেকে ১২ দিন আগেই শুরু হয় বর্ষবরণের আয়োজন, যার রেশ নতুন বছর শুরুর পর আরও ১০ থেকে ১২ দিন পর্যন্ত থাকে। জাতিগোষ্ঠীভেদে এই উৎসব বিজু, বৈসু, সাংগ্রাই, বিহু, চাংক্রান, বিষু, সাংলান, চাংক্রাই, পাতা এবং বাংলা নববর্ষ নামে পরিচিত।
বৃহস্পতিবার সকালে রাঙ্গামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণে বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিহু, চাংক্রান, বিষু, সাংলান, চাংক্রাই ও পাতা উদযাপন পরিষদ ২০২৬-এর উদ্যোগে চারদিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করা হয়।
এ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রকৃতি রঞ্জন চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য উষাতন তালুকদার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উষাতন তালুকদার বলেন, চৈত্র মাসে জুমিয়াদের পরিবারে স্বাভাবিকভাবেই অভাব থাকে। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে অনেকেই শান্তিপূর্ণভাবে বিজু উদযাপন করতে পারছেন না। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় অবহেলা, ভূমি অধিকার সংকট, পার্বত্য চুক্তির বাস্তবায়ন না হওয়া এবং সংস্কৃতি হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা এ অঞ্চলের মানুষের জন্য উদ্বেগের কারণ।
তিনি জানান, চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে অতীতে বিএনপি সরকারের সঙ্গে ১৩ বার আলোচনা হয়েছে এবং তাদের সদিচ্ছা ছিল বলে তিনি মনে করেন। দীর্ঘ ১৭ বছর পর তারা আবার সরকারে এসেছে, তাই এবার চুক্তি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমরা অন্য সবার মতোই শান্তিতে বাঁচতে চাই।
পরে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা রাঙ্গামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীরা নিজ নিজ ঐতিহ্যবাহী পোশাকে অংশ নেন। ৯ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত চলা এই চারদিনব্যাপী আয়োজনে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
১২ এপ্রিল নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে শুরু হবে বর্ষবরণের মূল আনুষ্ঠানিকতা। ১৩ এপ্রিল পালিত হবে মূল বিজু, এদিন নানা ধরনের সবজি দিয়ে রান্না করা হবে টক-ঝাল-মিষ্টি স্বাদের ঐতিহ্যবাহী ‘পাঁজন’। আর ১৪ এপ্রিল পালিত হবে গজ্জাপজ্জা বা পহেলা বৈশাখ।
এফপি/অ