কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে তেলের জন্য হাহাকার পড়েছে। তেল সরবরাহের দিন পেট্রোল পাম্প বা ফিলিং স্টেশনগুলিতে দিনভর দীর্ঘ লাইন থাকছে। ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে কারো ভাগ্যে তেল মিলছে, আবার অনেককে তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে।
তবে বিশেষ ক্ষেত্রে দিনের বেলায় লাইনে দাড়িয়ে তেল না পেলেও কতিপয় অসাধু ফিলিং স্টেশন মালিক রাতের আঁধারে কালোবাজারে তেল পাচার করছে এমন অভিযোগ উঠেছে। আবার মোটর সাইকেলের ট্যাংকি ভর্তি করে অসাধু চক্র প্রত্যন্ত গ্রাম ও পাড়া মহল্লায় গিয়ে প্রতি লিটার পেট্রোল ৩০০ টাকা বা তারও বেশী দরে বিক্রি করছে এমন অভিযোগ নজরে এসেছে।
আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে এক ব্যাক্তি মোটরসাইকেলের ট্যাংকি থেকে পেট্রোল বের করে ৩০০ টাকা লিটার বিক্রি করতে দেখা গেছে।
আর এমন ঘটনা প্রতিনিয়ত দৌলতপুরের বিভিন্ন এলাকায় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাতের আঁধারে পাচার হওয়া বেশীরভাগ তেল চরাঞ্চলে সরবরাহ হচ্ছে। বিশেষ করে রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনয়নের দূর্গম চরাঞ্চলে এক লিটার পেট্রোল এখন সোনার হরিণ। প্রতি লিটার পেট্রোল সর্বনিম্ন ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে যার কাছে যে যত দাম বাড়িয়ে বিক্রি করতে পারে ওইসব অঞ্চলে এমন প্রতিযোগিতা রয়েছে।
দৌলতপুর হাসপাতাল রোডে ৩০০ টাকা লিটার পেট্রোল বিক্রি হতে দেখা গেছে। দৌলতপুর কলেজের এক শিক্ষক দিরাজ নামে ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৩০০টাকা লিটার তেল কিনে বিপাকে পড়েছেন। খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতে অভিযানও চালিয়েছে।
একসময় যারা খোলা বাজারে সপ্তাহে আধা লিটার তেল কিনে মোটরসাইকেলে চড়েছে তারা এখন বিশেষ সুবিধায় মোটর সাইকেলের ট্যাংকি ভর্তি করে জমজমাট তেলের ব্যবসা করে চলেছে। তবে বিশেষ সুবিধার আওতায় আসতে তাদেরও গুনতে হচ্ছে অর্থ, দিতে হচ্ছে মাসুল। স্বস্থির কথা তেলের দূর্মুল্যের বাজারে সড়কে কমেছে মোটরসাইকেলের দৌরাত্ম। কিশোর গ্যাংয়ের বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেল চালানো এখন ততটা দৃশ্যমান নয় বলে পথচারীরা জানিয়েছেন। এরফলে সড়কে দূর্ঘটনাও কমেছে, কমেছে প্রাণহানি। সর্বপরি তেল নিয়ে তেলেসমাতি কারবারে এখন দিশেহারা মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা।
যারা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সরবরাহ করতে পারছেন না, প্রয়োজনের তাগিদেই তারা উচ্চমূল্যে কালোবাজারে তেল সরবরাহ করে প্রয়োজন মেটাচ্ছেন বলে ভূক্তভোগীরা জানিয়েছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আরিফুর রহমান জানান, উপজেলার বেশকিছু এলাকায় বোতলে ভরে বেশি দামে পেট্রোল বিক্রির অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ তদন্ত করছে। তবে সুনিদিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেব।
এফপি/জেএস