কুষ্টিয়ার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে বাইকার ও যানবাহনের বাড়তি চাহিদার কারণে তেল সংকটের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বেশিরভাগ পাম্পে তেল না পেয়ে খালি হাতে ফিরছেন অনেক চালক।
এতে পাম্পগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে উপচে পড়া ভিড় ও ভোগান্তি। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কুষ্টিয়ার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে গাড়ি ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরও সরকারের বেঁধে দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী অনেকেই তেল পাচ্ছেন না। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন গ্রাহকরা।
তেল না পাওয়ায় কোথাও কোথাও বাকবিতন্ডার ঘটনাও ঘটছে। এ সময় গ্রাহকরা পেট্রোল পাম্পগুলোর ওপর সরকারের কঠোর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে পাম্প মালিকরা বলছেন, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে হঠাৎ করে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় চাপ তৈরি হয়েছে সরবরাহ ব্যবস্থায়। কুষ্টিয়ার ছয়টি উপজেলায় পেট্রোল পাম্প ও ডিপোতে এখনো ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। যানবাহনভিত্তিক কোটা মেনে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। কুষ্টিয়া জেলা জুড়ে ৩১টি পাম্পে এমন চিত্র কয়েকদিন ধরেই চলছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাম্পগুলো থেকে ২-৩ কিলো মিটার পর্যন্ত লম্বা লাইন থাকছে। সোমবার মিরপুর উপজেলার আমলা পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, তেল নেওয়ার জন্য চালকদের জটলা তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কিছু পাম্পে তেল মজুত থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বিক্রি বন্ধ রাখা হচ্ছে। তবে আমলা পেট্রোল পাম্পের মালিক সেলিম হোসেন বলেন, জেলায় জ্বালানি তেলের কোনো প্রকৃত সংকট নেই। ডিপো থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। কিছু পাম্প মালিক তেল বিক্রি বন্ধ রেখেছেন এমন খবর পাওয়া গেছে, যা অনৈতিক বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি চালকদের আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল নেওয়ার পরামর্শ দেন।
চালকের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। দৌলতপুর উপজেলার চারটি তেলের পাম্প ঘুরে সাগর ফিলিং স্টেশনে আসা এক মোটরসাইকেল চালক রাব্বি জানান, প্রায় ৪-৫ ঘন্টা ধরে বিভিন্ন পাম্পে ঘুরেও তেল পাওয়া যায়নি। কুষ্টিয়া শহরের মন্ডল ফিলিং স্টেশন, কুষ্টিয়া স্টোরের ৩টি পাম্প, রাজ্জাক ফিলিং স্টেশনসহ প্রায় সব পাম্পেই মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার চালকদের গাড়ীর লম্বা লাইন। প্রতিদিন সবগুলো পাম্প তেল দিতে পারছে না। সেই সাথে বোতলে এবং প্লাস্টিকের ড্রামে গোপনে তেল দিচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন মোটরসাইকেল চালকরা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরের ২টি পাম্পে তেল না পেয়ে শরিফুল ইসলাম নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী জানান, সকাল ৭টায় এসে দুই পাম্পে প্রায় ২ হাজার মানুষের ভীড়। তেল পায়নি। কাল থেকে মোটরসাইকেল চালানো সম্ভব হবে না।
তিনি অভিযোগ করেন, কিছু চক্র সক্রিয় হয়ে এসব তেল নিচ্ছে। তেল মোটরসাইকেল থেকে বের করে আবার আসছে। পরে সেটা খোলাবাজারে বিক্রি করছে। এগুলো প্রশাসনের দেখা জরুরী।
এফপি/জেএস