কক্সবাজারের টেকনাফে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে জিম্মি করে রাখা ১৩ জনকে উদ্ধার করেছে র্যাব-১৫। সোমবার (৩০ মার্চ) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে
টেকনাফ সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ লম্বরী এলাকায় একটি বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়। র্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক আ. ম. ফারুক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৫-এর সিপিসি-১ টেকনাফ ক্যাম্পের একটি বিশেষ আভিযানিক দল জানতে পারে যে, দক্ষিণ লম্বরী এলাকার মোছাঃ মরিয়ম বেগমের বাড়িতে একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্র বেশ কয়েকজন নারী ও পুরুষকে জোরপূর্বক আটকে রেখেছে। পাচারকারীরা তাদের সাগরপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর পাশাপাশি পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করছিল। সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করে রাতেই অভিযানে নামে র্যাবের চৌকস দল। তবে অভিযান টের পেয়ে পাচারকারী চক্রের সদস্যরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে বাড়িটি তল্লাশি করে ১৩ জন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ৬ জন বাংলাদেশি পুরুষ, ৪ জন রোহিঙ্গা পুরুষ এবং ৩ জন রোহিঙ্গা নারী রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মানবপাচার চক্রের ভয়াবহ কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
এ ঘটনায় পলাতক আসামিদের মধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে—মোঃ সাইফুল (৩৮), মোঃ মালবিক কামাল (৪৬), মোঃ ফাইসাল (২৭), মোঃ জাফর (৩৬) এবং মোঃ সাইফুল ইসলাম (২৪)। তারা সকলেই টেকনাফ থানার বাসিন্দা। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে। র্যাব জানায়, উদ্ধারকৃতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এ ঘটনায় টেকনাফ মডেল থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মানবপাচারকারী চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব-১৫।
এফপি/জেএস