নাটোরের বড়াইগ্রাম নির্মাণাধীন একটি পাওয়ার গ্রিডে নিরাপত্তা কর্মীদের বেঁধে প্রায় দুই কোটি টাকার বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (২৫ মার্চ) রাতে উপজেলার বনপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আজ সকালে খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পুলিশ ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নির্মাণাধীন ওই পাওয়ার গ্রিডে সিভিল কনস্ট্রাকশন ও ইলেকট্রিক্যাল ফিটিংসের কাজ চলছিল। প্রকল্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন চারজন নিরাপত্তা কর্মী। বুধবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে রাতের খাবার শেষে ফেরার পথে নিরাপত্তা কর্মীরা গেট খুললে ৫-৬ জনের একটি সশস্ত্র দল কৌশলে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে নিরাপত্তা কর্মীদের হাত পা পেতে অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করে একটি কক্ষে আটকে রাখে। দীর্ঘ সময় ব্যাপী লুট করে গ্রিডের ভেতরে গাড়ি ঢুকিয়ে মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।
নিরাপত্তাকর্মী আবুল কাশেম জানান, দুর্বৃত্তরা হঠাৎ অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করে ফেলে। এরপর চারজনকেই হাত, পা, চোখ ও মুখ বেঁধে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পাহারাদারদের আটকে রেখে দুর্বৃত্তরা গ্রিডের ভেতরে ট্রাক বা বড় গাড়ি ঢুকিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে মালামাল লুট করে। দীর্ঘসময় ধরে চলে এই লুটপাট। দুর্বৃত্তরা চলে যাওয়ার পর ভোররাতে পাহারাদাররা নিজেদের বাঁধন খুলতে সক্ষম হন এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের ফোন করে বিষয়টি জানান।
প্রকল্পের বৈদ্যুতিক কাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল ওয়্যার অ্যান্ড ক্যাবল ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট কর্পোরেশনের (সিসি) স্থানীয় প্রতিনিধি প্রকৌশলী সোলায়মান আলী জানান, লুট হওয়া মালামালের মোট মূল্য প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা মূল্যের ৩৬৮টি ব্যাটারি এবং ৫৩ লাখ টাকা মূল্যের ২ হাজার মিটার তামার তার। এছাড়াও চুরির প্রমাণ লোপাট করতে দুর্বৃত্তরা সিসিটিভি ক্যামেরার দুটি ডিভিআর মেশিন এবং পাহারাদারদের মোবাইল ফোনও নিয়ে গেছে।
খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার নাটোর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) সুমন কুমার, বড়াইগ্রাম সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শোভন চন্দ্র হোড় এবং বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শোভন চন্দ্র হোড় বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। জড়িতদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে।
এ ঘটনায় পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
এফপি/অ