দেশের বিভিন্ন জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ৪২টি জেলায় প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলেও বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলার মধ্যে একমাত্র বরগুনা এখনো এই তালিকার বাইরে রয়েছে। ফলে জেলাটিতে সম্ভাব্য প্রশাসক নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল বেড়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম ধাপের নিয়োগ তালিকায় বরগুনার সম্ভাব্য পরিচিত কয়েকজনের নাম না থাকায় নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় নতুন ও তুলনামূলক গ্রহণযোগ্য মুখ খোঁজার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও সংগঠক মোঃ রুহুল আমিন শরীফ।
জানা যায়, বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার রামনা ইউনিয়নের বাসিন্দা রুহুল আমিন শরীফ দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। স্থানীয় পর্যায়ে একজন কর্মীবান্ধব ও সমন্বয়কারী নেতা হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে। দলের বিভিন্ন দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানো এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি তৃণমূল পর্যায়ে আস্থাভাজন হিসেবে বিবেচিত হন।
রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসা ক্ষেত্রেও তিনি প্রতিষ্ঠিত। তৈরি পোশাক খাতসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে তিনি শিল্প উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত থেকে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়া নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় তার অভিজ্ঞতাও আলোচনায় রয়েছে। অতীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার অভিজ্ঞতা তাকে রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি সংগঠক হিসেবে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সাম্প্রতিক সময়ে তাকে ঘিরে আলোচনা বাড়তে দেখা গেছে। অনেকেই তার সততা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে সম্ভাব্য প্রশাসক হিসেবে এগিয়ে রাখছেন বলে মত প্রকাশ করছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রুহুল আমিন শরীফ বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন এবং যে কোনো দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত আছেন। ব্যক্তিগতভাবে কোনো কিছু প্রত্যাশা না থাকলেও দল বা রাষ্ট্রের প্রয়োজনে দায়িত্ব এলে তা সাধ্যমতো পালন করবেন বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে আরও কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার নামও বিভিন্ন মহলে আলোচনায় রয়েছে। ফলে শেষ পর্যন্ত কে এই দায়িত্ব পান, তা নিয়ে জেলাজুড়ে আগ্রহ বিরাজ করছে।
সব মিলিয়ে, বরগুনা জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সমীকরণ, অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতার বিষয়গুলোই এখন আলোচনার মূল উপজীব্য হয়ে উঠেছে।
এফপি/জেএস