রাজশাহীর তানোর উপজেলার বাধাইড় ইউনিয়নে জুমারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মূল প্রবেশপথে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্কুলের প্রবেশপথটি ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গায় হওয়ায় জমির মালিকানা দাবি করে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে স্থানীয় রোকন উদ্দীন মোল্লা সেখানে বেড়া দিয়ে পথ রুদ্ধ করে দেন। এতে করে সকালে বিদ্যালয়ে আসা শিক্ষার্থীরা ভেতরে প্রবেশ করতে না পেরে চরম ভোগান্তির শিকার হয়।
উল্লেখ্য, এই বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা শুধু পড়াশোনায় নয়, বরং ফুটবল খেলাতেও বেশ পারদর্শী। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে তারা একাধিকবার পুরস্কার অর্জন করে এলাকার গৌরব বাড়িয়েছে। এমন একটি সম্ভাবনাময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল ফটক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে জুমারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি পরিচালিত হলেও কেন নিজস্ব জায়গায় স্থায়ী প্রবেশপথ বা গেট নির্মাণ করা হয়নি, তা নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, জমির মালিক দাবিদার রোকন উদ্দীন মোল্লার সঙ্গে এই পথ নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। তবে বিষয়টি আইনি বা সামাজিকভাবে স্থায়ী সমাধান না করে রাজনৈতিক প্রভাবে ঝুলিয়ে রাখায় শেষমেশ জমির মালিক তাঁর জায়গায় দোকানঘর নির্মাণের পরিকল্পনা করে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে দেন। যদিও প্রধান গেট অবরুদ্ধ হওয়ার পর বিদ্যালয়ের অন্য পাশে একটি সরু গলি দিয়ে যাতায়াতের বিকল্প ব্যবস্থা থাকলেও তা শিক্ষার্থীর স্বাভাবিক চলাচলের জন্য একেবারেই অনুপযোগী।
এ ঘটনার খবর পেয়ে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খানের নির্দেশে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিব শংকর বসাক। তিনি সেখানে উপস্থিত হয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীকে শান্ত করেন এবং বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) জমির মালিক ও স্কুল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে তাঁর কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।
তানোর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সিদ্দিকুর রহমান এ প্রসঙ্গে জানান, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পথ এভাবে বন্ধ হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা দ্রুত একটি সম্মানজনক সমাধানের চেষ্টা করছি যাতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও খেলাধুলার পরিবেশ বিঘ্নিত না হয়।
স্থানীয় এলাকাবাসীর মতে, ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার যেমন অগ্রাহ্য করা যায় না, তেমনি এই কৃতি ফুটবলার ও ছাত্রীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে প্রশাসনের উচিত দ্রুত একটি স্থায়ী প্রশস্ত রাস্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
এফপি/জেএস