আমরা কোনো পরিবার, কোনো গোষ্টিতন্ত্র কায়েম করতে চাই না, আমরা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না, আমরা চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। কুড়িগ্রামে কেন্দ্রীয় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
এসময় তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সব চাইতে পিছিয়ে পড়া, সব চাইতে বঞ্চিত জেলার নাম হচ্ছে কুড়িগ্রাম। জামায়াতে ইসলাম ক্ষমতায় গেলে এই কুড়িগ্রাম থেকে আমাদের উন্নয়ন শুরু হবে, ইনশাআল্লাহ। কোন দাবি জানাতে হবে না, এটি আমাদের নৈতিক কর্তব্য হবে। এর পড়ে অন্য উন্নয়ন বঞ্চিত জেলায় কাজ করা হবে। বঞ্চিতদের আর কোন মিছিল করার প্রয়োজন হবে না। যারা রাষ্টের দায়িত্বে যাবে তারা রাষ্ট্রের মালিক নয়, তারা রাষ্ট্রের চৌকিদার। চৌকিদারদের চৌকিদারের দায়িত্ব পালন করতে হবে। ভাই ও বন্ধু আমরা ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছি ইনশাআল্লাহ এই উত্তর জনপদকে আমরা কৃষি শিল্পের রাজধানীতে পরিণত করব।
আমাদের যুবকরা, যুবতি, মায়েরা ও ভাইয়েরা কাজ পাবে। কেউ সেদিন বেকার থাকবে না। যখন কৃষি বিপ্লব এখানে হবে তখন সবাই কাজ পেয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। বলবেন শুধু আমাদের কৃষক বানায় রাখবেন না, আপনাদের বুক থেকে, ঘর থেকে মায়েদের গর্ভ থেকে আগামীর প্রধানমন্ত্রী বের হবে ইনশাআল্লাহ। এই বঞ্চিত এলাকাকে আল্লাহ যেন মণিমুক্তা দিয়ে ভরে দেয়। গরিবের ছেলে তাই সে পড়তে পারবে না, ওইদিন শেষ, এই গরিবের ছেলের ভিতর থেকে আগামী দিনের নেতৃত্ব বেরিয়ে আসবে ইনশাল্লাহ। ওই মেধা গুলোকে বিকশিত করা রাষ্ট্র এবং সরকারের দায়িত্ব।
জনসভায় কুড়িগ্রাম জেলা আমীর অধ্যাপক আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মাওলানা আব্দুল হালিম, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ সিবগাতুল্লাহ, জাতীয় নাগরিক পাটির (এনসিপির) সদস্য সচিব আখতার হোসেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা নিজাম উদ্দিন, সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল হামিদ ও শাহজালাল হক সবুজ, ২৫ কুড়িগ্রাম-১ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম, ২৬ কুড়িগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী আতিক মুজাহিদ, ২৭ কুড়িগ্রাম-৩ আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী, ২৮ কুড়িগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান সহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
আজকরে নির্বাচনী জনসভায় কুড়িগ্রামের ৯টি উপজেলা থেকে প্রায় ২ লক্ষাধিক নারী ও পুরুষ যোগদান করেছেন। এসময় চারটি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদেরকে দাঁড়িপাল্লা ও শাপলা কলি প্রতীক তুলে দিয়ে ভোট প্রার্থনা কামনা করেন।
এফপি/জেএস