স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও সরাইল ও আশুগঞ্জের মানুষের ভাগ্যের মৌলিক কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
তিনি বলেন, “এই অঞ্চলের মানুষ বারবার আশ্বাস পেয়েছে, কিন্তু উন্নয়ন পায়নি। এবার সেই বৃত্ত ভাঙার সময় এসেছে।”
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের আশুগঞ্জ উপজেলার মৈইশাল গ্রামে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্র পাহারার বিষয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, “১১ তারিখ বিকাল থেকে ১২ তারিখ বিকাল পর্যন্ত, ফলাফল ঘোষণা ও স্বাক্ষর সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কেউ কেন্দ্র ছাড়বেন না। কেউ যদি ফাউল করার চেষ্টা করে, কেউ যদি হাঁস চুরি বা হাঁসের ডিম খাওয়ার স্বপ্ন দেখে—তাদের উচিত জবাব দিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এখন থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত মার্কা একটাই—হাঁস মার্কা। পরিবর্তনের সূচনা এই মাটি থেকেই শুরু হবে, ইনশাআল্লাহ।”
আশুগঞ্জের উন্নয়ন বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন রাখেন, “আশুগঞ্জে বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে, সার কারখানা আছে, গ্যাস আছে, অসংখ্য চালকল আছে—তবুও কেন আজও আশুগঞ্জ পৌরসভা হয়নি? কেন সরাইল ও আশুগঞ্জের মানুষ এখনও গ্যাস সুবিধা থেকে বঞ্চিত?”
রাজনীতির চরিত্র নিয়ে তিনি বলেন, “রাজনীতি মানুষের সেবা করার জন্য, জুলুম করার জন্য নয়। আমরা এমন নেতৃত্ব চাই, যারা দলীয় পদ ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ওপর জোর-জবরদস্তি করবে না, ভয় দেখাবে না।”
নিজের নির্বাচনী প্রতীক সম্পর্কে রুমিন ফারহানা বলেন, “হাঁস মার্কা শুধু একটি প্রতীক নয়—এটি পরিবর্তনের মার্কা, গণতন্ত্রের মার্কা ও সাহসের মার্কা। এটি দুর্নীতির বিরুদ্ধে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং সততার পক্ষে কথা বলার প্রতীক।” ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আল্লাহ যদি আপনাদের দোয়ায় আমাকে বিজয়ী করেন, তাহলে আমি সরাইল ও আশুগঞ্জকে আমার স্বপ্নের মতো করে সাজাবো। আপনারা আমার পাশে থাকুন, আমার হাত শক্তিশালী করুন।”
তিনি আরও বলেন, “জনগণ এবার এমন এমপি চায়, যারা ক্ষমতায় গিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি করবে না, টাকা নিয়ে মামলায় নাম ঢোকাবে না এবং অবৈধ বালু ও মাটি ব্যবসার সঙ্গে জড়াবে না।”
জনসভায় স্থানীয় নেতাকর্মীসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এফপি/জেএস