পিরিয়ডের আগের দিনগুলোতে মেজাজের পরিবর্তন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এই মানসিক পরিবর্তনগুলো হালকা বিরক্তি থেকে শুরু করে দুঃখ বা উদ্বেগের তীব্র অনুভূতি পর্যন্ত হতে পারে। হরমোনের পরিবর্তন একটি অনিবার্য কারণ হলেও, জীবনযাপনের ধরন, বিশেষ করে খাদ্যাভ্যাস এই মেজাজের পরিবর্তনকেও প্রভাবিত করতে পারে। যদি অনেকের মতো আপনিও হঠাৎ মেজাজের ওঠানামার সঙ্গে লড়াই করেন, তাহলে পিরিয়ডের আগে ডায়েটে নির্দিষ্ট খাবার যোগ করলে শারীরিক এবং মানসিক চাপ কমতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক মুড সুইং এড়াতে পিরিয়ডের আগে কী খাবেন-
১. পাতাযুক্ত সবুজ শাক-সবজি
পালং শাক, মেথি শাক ইত্যাদির মতো পাতাযুক্ত সবুজ শাকসবজি ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ। এটি একটি খনিজ যা মস্তিষ্কের কার্যকারিতা এবং মেজাজ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিনে প্রকাশিত একটি গবেষণা নিবন্ধ অনুসারে, ম্যাগনেসিয়াম প্রিমেনস্ট্রুয়াল সিনড্রোম (PMS) এর লক্ষণ উপশম করতে সাহায্য করে, যার মধ্যে মুড সুইং এবং বিরক্তি অন্তর্ভুক্ত।
২. ফ্যাটি ফিশ
দ্য জার্নাল অফ অবস্টেট্রিক্স অ্যান্ড গাইনোকোলজিতে প্রকাশিত ২০২২ সালের একটি গবেষণাপত্র অনুসারে, ওমেগা-৩ তার প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্য এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাবের জন্য পরিচিত। স্যামন, ম্যাকেরেল এবং সার্ডিনের মতো মাছে প্রচুর ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে এবং এটি একটি চমৎকার উৎস। তাছাড়া ওমেগা-৩ বিষণ্ণতা কমাতে কাজ করে। সেইসঙ্গে পিএমএসের সঙ্গে সম্পর্কিত মেজাজের পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।
৩. বাদাম এবং বীজ
বাদাম, আখরোট, তিসির বীজ এবং কুমড়োর বীজ এসেন্সিয়াল ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ম্যাগনেসিয়ামের দুর্দান্ত উৎস। এই পুষ্টি উপাদানগুলো নিউরোট্রান্সমিটার ফাংশনকে সমর্থন করে, যা মেজাজ স্থিতিশীল করতে এবং পিএমএসের লক্ষণ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
৪. আস্ত শস্য
বাদামি চাল, কুইনোয়া এবং ওটসের মতো আস্ত শস্য জটিল কার্বোহাইড্রেট সরবরাহ করবে যা মস্তিষ্কে সেরোটোনিনের মাত্রা বাড়াতে পারে, সুস্থতার অনুভূতি বাড়াতে এবং মেজাজের পরিবর্তন কমাতে পারে। পিরিয়ডের দিনগুলোতে আপনার মেজাজ উন্নত করার এটি সবচেয়ে সহজ উপায়।
এফপি/এমআই