ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়ার মিনি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে তিনি মঞ্চে উঠলে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। মঞ্চে ওঠার পর তিনি মঞ্চের সামনে থাকা নেতাকর্মীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
রাত ১০টা ৩৪ মিনিটে বক্তব্য শুরু করে টানা ১৯ মিনিট তিনি বক্তব্য দেন। সিলেট থেকে শুরু করে একাধিক জনসভায় অংশগ্রহণ শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসেন তারেক রহমান। এটি ছিল তার ওই দিনের চতুর্থ জনসভা।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। সভা সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন আসনের বিএনপি ও জোট মনোনীত প্রার্থীরা—মুশফিকুর রহমান, জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, জুনায়েদ আল হাবিব, আব্দুল মান্নান ও এম এ হান্নান। এছাড়া বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। তারেক রহমান জনসভার প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।
সমাবেশ উপলক্ষে দুপুর থেকেই জেলার নয়টি উপজেলা থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জনসভাস্থলে উপস্থিত হতে থাকেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তারা তারেক রহমানের বক্তব্য শোনার জন্য মাঠেই অবস্থান করেন।
বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। মিডিয়ায় খবর এসেছে, কীভাবে বিদেশে একটি দল ব্যালট পেপার দখলে নিয়েছে। একই ধরনের ষড়যন্ত্র দেশেও হচ্ছে। অতীতে যে নিশিরাতের নির্বাচন হয়েছে, সেটি আবার করার চেষ্টা চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি নেতাকর্মী ও ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, “আপনাদের তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করতে হবে। এরপর ফজরের সময় ভোটকেন্দ্রে চলে যাবেন। প্রয়োজনে ভোটকেন্দ্রের সামনে গিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করবেন, জামায়াতের সঙ্গে।”
তারেক রহমান আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষি কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। পাশাপাশি ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের বেতন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “আমরা ও আমাদের জোটের প্রার্থীদের নির্বাচিত করতে হলে আপনাদের ভোট দিতে হবে।”
জনসভা শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় এবং সমাবেশকে ঘিরে পুরো এলাকায় ব্যাপক রাজনৈতিক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
এফপি/অ