বহুমুখী প্রতিভা এবং উদ্ভাবনী জ্ঞানের অধিকারী ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ ফরিদুর আলম পোর্ট এবং শিপিং সেক্টরের এক স্বনামধন্য বিশেষজ্ঞের নাম। তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের সদ্য সাবেক উপ সংরক্ষক এবং বর্তমানে পায়রা বন্দরে পরিচালক (পরিবহন) হিসেবে কর্মরত আছেন।
তার পারদর্শিতার ইতিহাস ২০০৪ সাল থেকেই। উক্ত সময়ে জলদস্যতায় আন্তর্জাতিক মহলে চট্টগ্রাম বন্দরের ভাবমূর্তি নেতিবাচক ছিল। তিনি আন্তর্জাতিক বন্দর এবং জাহাজ নিরাপত্তা কোড বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ফলে ২০০৬ সালে চট্টগ্রাম বন্দর জলদস্যুতার কালিমা মুক্ত হয়। তার প্রণীত আই এস পি এস হ্যান্ডবুক নামক বইটি এখনো ইউএস কোস্টগার্ড কর্তৃক নৌ নিরাপত্তা গাইড হিসেবে স্বীকৃত।
গভীর সমুদ্র বন্দর বিষয়ে তার লেখালেখির সূত্রপাত ২০০৩ সাল থেকেই। চট্টগ্রাম বন্দরের সীমান ছয়গুণ বর্ধিত করে উত্তরে মিরসরাই থেকে দক্ষিনে মহেশখালী পর্যন্ত বিস্তৃত করার এই মহা উদ্যোগে তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর টার্মিনালে মাদার ভেসেল বার্থিং এবং চট্টগ্রাম বন্দরে ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভিড়াতে তার ভূমিকা ছিল অপরিসীম।
আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক নৌ যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরকে আধুনিক শিপিং হাবে রূপান্তরের লক্ষ্যে তিনি বিভিন্ন পলিসি প্রণয়ন করেন। সম্প্রতি নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে বন্দর নিরাপত্তা, লজিস্টিকস এবং কানেক্টিভিটি বিষয় আয়োজিত কর্মশালায় তিনি মুখ্য আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। উক্ত বিষয়ে তার পারদর্শিকতার স্বীকৃতি স্বরূপ নৌপরিবন মন্ত্রণালয় তাকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেন।
চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে সমুদ্রপথে বিশ্বের বড় বড় বন্দর গুলোর সরাসরি শিপিং সার্ভিস চালু করার জন্য তিনি বেশ কয়েকটি শিপিং এগ্রিমেন্ট প্রণয়ন করেন এবং তদানুযায়ী স্পেন, চীন এবং যুক্তরাজ্য সহ কয়েকটি দেশের সাথে ডাইরেক্ট শিপিং চালু হয়। শ্রীলংকা, নেদারল্যান্ড, মালদ্বীপ, ব্রাজিল, ভিয়েতনাম ইত্যাদি দেশের সাথেও সরাসরি যা চলাচল প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বিমসটেক, সার্ক, সাসেক ইত্যাদি আঞ্চলিক ফোরামের কর্মপরিকল্পনায় বাংলাদেশের সমুদ্র বন্দর সমূহকে মেরিটাইম গেটওয়ে হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে তিনি নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের উপসংরক্ষক থাকাকালীন পোর্ট অপারেশনে automation চালু করেন। ফলে ডিজিটাল পাইলটিং এবং অনলাইন মেরিন বিলিং চালু হয়। এ দীর্ঘ আট বছরে জাহাজ বার্থিং এ কোন অনিয়ম হয়নি এবং দক্ষতার সূচকে চট্টগ্রাম বন্দর এগিয়ে গেছে অনেক দূর।
একটি কুচক্রী এবং পরশ্রীকাতর মহল তার মেধা, যোগ্যতা এবং দক্ষতায় হিংসার আগুনে পুড়ে তাকে বিভিন্নভাবে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে যা কোনভাবে গ্রহণযোগ্য নয় এবং পোর্ট এবং সিভিল সেক্টরের জন্য হুমকিস্বরূপ বটে।
এফপি/অ