পরের জমিতে হাড়ভাঙা খাটুনি আর রোদে পুড়ে প্রবাসে অর্জিত টাকা দিয়ে স্বপ্নের ঘর বাঁধতে চেয়েছিলেন মালয়েশিয়া প্রবাসী হিরন খান। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। প্রতিবেশী এক নারী ও তার পরিবারের পাতা প্রতারণার ফাঁদে পড়ে ৫ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা খুইয়ে এখন নিঃস্ব ওই প্রবাসী। এই ঘটনায় কলারোয়ার এক সংঘবদ্ধ পরিবারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে, যার তদন্ত করছে যশোর পিবিআই (চইও)।
মামলার বিবরণ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় থাকাকালীন সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার মাদরা (সোনাবাড়িয়া ইউনিয়ন) গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে কুলসুম বেগমের সাথে প্রবাসীর পরিচয় হয়। প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে কুলসুম প্রবাসী হিরন খানকে বিশ্বাস অর্জনের জালে বন্দি করে।
হিরন খান মালয়েশিয়া যাওয়ার পর থেকেই শুরু হয় কুলসুমের আসল রূপ। কখনো বাবা-মায়ের অসুস্থতা, কখনো সন্তানদের করুণ দশা এমন নানা আবেগঘন মিথ্যা নাটক সাজিয়ে প্রবাসীর কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিতে থাকে সে। প্রমাণ হিসেবে দেখা গেছে, প্রবাসী হিরন খান বিশ্বাস করে কুলসুমের ডাচ-বাংলা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে (নং- ২৭৭১০৩০১০৭০৪৮) ১ লক্ষ ৮১ হাজার ৮৭ টাকা এবং বিভিন্ন বিকাশ নাম্বারে আরও ১ লক্ষ ৩১ হাজার ৬৮৮ টাকা পাঠান। এভাবে কয়েক দফায় মোট ৫ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় কুলসুম ও তার পরিবার।
টাকা ফেরত চাইলে শুরু হয় টালবাহানা। এক পর্যায়ে অভিযুক্তরা টাকা পাওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে এবং প্রবাসীর স্ত্রীকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
ভুক্তভোগী প্রবাসীর স্ত্রী মোছাঃ লিপি খাতুন বাদী হয়ে কেশবপুর আমলী আদালতে মামলা (সিআর-৭৬৫/২৫) দায়ের করেছেন। মামলায় কুলসুমকে প্রধান আসামি করা ছাড়াও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আসামিরা হলেন কুলসুম, তার ভাই হৃদয়, বোন ফাতেমা, পিতা আব্দুর রাজ্জাক এবং মাতা পারভীনা খাতুন।
অভিযোগ রয়েছে, এই পুরো পরিবারটি প্রবাসীর টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার সাথে সরাসরি জড়িত।
আদালতের নির্দেশে মামলাটি বর্তমানে পিবিআই যশোর জেলা ইউনিট তদন্ত করছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আলম জানান, ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে এবং ব্যাংকিং লেনদেনের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তাধীন এই বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, মালয়েশিয়ায় থাকা হিরন খান বিভিন্ন এনজিও ও ব্যক্তির কাছ থেকে ঋণ নিয়ে বিদেশ গিয়েছিলেন। কিন্তু পাঠানো টাকা আত্মসাৎ হওয়ায় বর্তমানে তার পরিবার চরম আর্থিক অনটনে মানবেতর জীবন যাপন করছে। পাওনাদারের চাপে দিশেহারা কেশবপুর উপজেলার ত্রিমোহিনী ইউনিয়নের প্রবাসী হিরণ খানের স্ত্রী চাদড়া গ্রামের লিপি খাতুন এখন প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন প্রিয় স্বামীর উপার্জিত টাকা ফেরত পেতে।
অসহায় এই পরিবারটি এখন ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের দিকে তাকিয়ে আছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এ ধরনের প্রতারক চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থের নিরাপত্তা বিঘ্ন্নিত হবে এ ব্যাপারে কুলসুম এর ০১৭৫২৭১৮৬৫৪ মোবাইল ফোনে বার বার যোগাযোগ করা হলে ফোনটি বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এফপি/অ