খোকসার কালীবাড়ী মন্দিরটি গড়াই নদের তীরে অবস্থিত। মাঘ মাসের অমাবস্যা থেকে শুরু হওয়া পূজার সময় ৭.৫ হাত লম্বা বিশাল কালী প্রতিমা স্থাপন করা হয়। মন্দির প্রাঙ্গণে পূজা উপলক্ষে পক্ষকালব্যাপী মেলার আয়োজন করা হয়। যেখানে দেশ-বিদেশ থেকে অর্ধলাখের বেশি ভক্ত সমাগম করেন।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) থেকে কুষ্টিয়ার খোকসার ঐতিহ্যবাহী কালীপূজা শুরু হচ্ছে। মন্দির কমিটির সভাপতি অধ্যাপক দুলাল বিশ্বাস ও নির্বাহী সদস্য সাধন পাল জানান, রোববার রাত থেকে পূজা শুরু হবে এবং সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠিত হবে। দূরদূরান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্ত এই পূজায় অংশগ্রহণ করেন।
কালীপূজার ইতিহাস
খোকসার কালীপূজার সঠিক সূচনা তারিখ জানা না গেলেও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তান্ত্রিক সাধু প্রবোধ কুমার ভট্টাচার্য্য প্রথম এই পূজা শুরু করেছিলেন। গড়াই নদের তীরে জনবিহীন জঙ্গলে এ পূজা আরম্ভ হয়। জমিদারদের সহায়তায় সাড়ে সাত হাত লম্বা কালীমূর্তি নির্মাণ করা হয়। এ সময় প্রথম পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় আজও খোকসার কালীপূজা বজায় রয়েছে।
মহিষ ও পাঁঠা বলিপ্রথা
কালীপূজার শুরু থেকেই ক্রোধের প্রতীক মহিষ ও পাঁঠা বলির প্রথা চালু আছে। প্রথমে বার্ষিক পূজার দিনে প্রথম প্রহরে চণ্ডী পাঠান্তে পাঁঠা বলি দেওয়া হতো। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ভক্তদের জন্য মানসার পাঁঠা বলি দেওয়া হয়।
যুগোপযোগী সংস্কার
নদীভাঙন ও অন্যান্য কারণে মন্দিরের পূজার আয়োজন হ্রাস পেয়েছিল। সম্প্রতি স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় ও পূজা কমিটির উদ্যোগে আধুনিক পূজা মন্দির ও প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। নাট মন্দির নির্মাণাধীন থাকলেও এটি শিগগির দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত হবে।
খোকসার কালীপূজা ও মেলার সাড়ম্বর বৃদ্ধির ফলে পূজা ও মেলায় অংশগ্রহণকারী ভক্ত ও দর্শনার্থীরা প্রাত্যহিক ও বার্ষিক সেবা সুবিধা ভোগ করতে পারছেন।
এফপি/জেএস