মৌলভীবাজার জেলা গোয়েন্দা শাখার বিশেষ অভিযানে দুটি চোরাই মোটরসাইকেল, চোরাই মোটরসাইকেল পার্টস এবং চুরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতিসহ মিল্টন সরকার (৪৯) নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গত ২ জানুয়ারি দুপুর আনুমানিক ১২ টার সময় মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বরহাট এলাকার ‘রাজা কমপ্লেক্স’ নামক বাসার গ্যারেজ থেকে জনৈক আজহারুল ইসলাম-এর মালিকানাধীন একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে মৌলভীবাজার সদর থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়। জেলা গোয়েন্দা শাখা মামলাটি তদন্তের জন্য কার্যক্রম শুরু করে।
পুলিশের সোর্স, সিসিটিভি ফুটেজ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ সুদীপ্ত শেখর ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে এসআই জামিল সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সের সহায়তায় মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাতে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল থানাধীন ভাড়াউড়া বাগান এলাকা থেকে মিল্টন সরকার ওরফে মিল্টন কুমার সাহা ওরফে মোঃ সোহেল (৪৯)-কে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চুরির ঘটনার সঙ্গে তার জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, মামলার চোরাই মোটরসাইকেলটি সে সিলেট জেলার এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেছে। উক্ত মোটরসাইকেল উদ্ধারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এছাড়াও আসামি জানায়, ঘটনার সময় ব্যবহৃত হেলমেটসহ আরও কিছু চোরাই মালামাল তার বর্তমান ঠিকানা অর্থাৎ মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সরকারবাজার এলাকার মাদ্রাসা-ই দারুল মোস্তফার ভাড়া ঘরে সংরক্ষিত রয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই আলামত উদ্ধারের লক্ষ্যে আসামিকে সঙ্গে নিয়ে শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ি, মৌলভীবাজারের টহল টিমের সহায়তায় উক্ত ঠিকানায় অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আসামি একজন পেশাদার ও সংঘবদ্ধ চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং এই চক্রের অন্যতম মূল হোতা। সে দীর্ঘদিন ধরে সিলেট, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে তা অজ্ঞাতনামা চোরাকারবারীদের কাছে বিক্রি করে আসছিল। অত্র মামলার ঘটনার সঙ্গেও তার সরাসরি সম্পৃক্ততার সত্যতা প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া গেছে।
এছাড়াও জানা গেছে, ধৃত আসামির বিরুদ্ধে সিলেট, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন থানায় মোট ২৭ টি মামলা রয়েছে।
এফপি/জেএস