| শিরোনাম: |

সন্ত্রাসীর গুলিতে নিহত ইনকিলাব মঞ্চের মূখপাত্র শহীদ ওসমান হাদী'র স্মরণে রংপুরে ছাত্র-জনতার ব্যানারে গায়েবানা জানাজা, দোয়া মাহফিল ও শোক র্যালী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বাদ জুমা মহানগরীর টাউন হল চত্বরে গায়েবানা জানাজা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় পরে শোক র্যালী টাউনহল চত্বর থেকে শুরু করে ডিসির মোড় হয়ে ইউটার্ন নিয়ে প্রেসক্লাব চত্বরে এসে শেষ হয়।
গায়েবানা জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বক্তারা বলেন, এক হাদী গেছে লক্ষ হাদী এখন রয়েছে। সকলে জান দেয়ার জন্য প্রস্তুত। জান দেবো তারপরও এক চুলও ভারতকে কিংবা ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগকে ছার দেয়া হবে না। এখন থেকে যেখানেই আওয়ামীলীগের কারো দেখা হবে সেখানেই তাদের প্রতিহত করা হবে। ভারতের দালালী বাংলাদেশে আর চলবে না। আমরা ২৪শের আন্দোলনে এক ছিলাম এখনো এক হয়ে সকল ফ্যাসিস্টদের মোকাবেলা করবো। হাদী ভাই আমাদের সকলের প্রিয় মানুষ ছিলেন, ইনকিলাব মঞ্চের মূখপাত্র তিনি। তার এই অকাল মৃত্যু বাংলার মাটিতে কেউ মেনে নিতে পারে না। তার অবুঝ শিশুটি কি দোষ করেছে যে তাকে এতিম হতে হলো। তাই অতিসত্বর হামলাকারীদের গ্রেফতার পূর্বক বিচার করতে হবে নির্বাচনের আগেই।
এ সময় উপস্থিত থেকে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন, মহানগর বিএনপির আহবায়ক সামসুজ্জামান সামু, সদস্য সচিব মাহফুজ উন নবী ডন, মহানগর জামাতের সহ সেক্রেটারী আল আমীন হাসান, মহানগর ছাত্র শিবিরের সভাপতি নুরুল হুদা, এনসিপি জেলা আহবায়ক আল মামুন, ছাত্র-শক্তির আহবায়ক ইমতিয়াজ হোসেন ইমতিসহ বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দগণ।
এ সময় রংপুরের সর্বস্তরের ছাত্র-জনতারা উপস্থিত ছিলেন। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে বেরোবি উপাচার্যের গভীর শোক প্রকাশ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর-এর উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শওকাত আলী ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাহসী যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর ২০২৫) বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ১০টায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
শোকবার্তায় উপাচার্য বলেন, শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন এক সাহসী, দেশপ্রেমিক ও আপসহীন রাজনৈতিক কর্মী। তিনি আজীবন অন্যায়, অবিচার ও শোষণের বিরুদ্ধে নির্ভীক কণ্ঠস্বর হিসেবে সংগ্রাম করে গেছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে তিনি জুলাইয়ের যোদ্ধাদের ন্যায্য অধিকার রক্ষা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখা এবং জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর চিন্তা, বক্তব্য ও অবস্থান সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে আরও শক্তিশালী করেছে।
উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শওকাত আলী শোক বিবৃতিতে বলেন, ওসমান হাদি ছিলেন একজন আদর্শবান ও দৃঢ়চেতা যুবক, যিনি নিজের বিশ্বাস ও নীতির প্রশ্নে কখনো আপস করেননি। আধিপত্যবাদী শক্তি ও সকল প্রকার অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে তাঁর কণ্ঠ ছিল স্পষ্ট, সাহসী ও আপসহীন। সন্ত্রাসী হামলায় তাঁর এ নির্মম মৃত্যু কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি শুধু একটি প্রাণহানি নয়, বরং ন্যায় ও সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো এক সাহসী কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দেওয়ার অপচেষ্টা।
শোকবার্তায় বেরোবি উপাচার্য এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, যারা ওসমান হাদিকে হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। উপাচার্য স্মৃতিচারণ করে বলেন, গত ফেব্রুয়ারিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরে প্রথমবারের মতো আয়োজিত শহিদ আবু সাঈদ বইমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে শরিফ ওসমান হাদির অংশগ্রহণ ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর চিন্তাশীল বক্তব্য ও উপস্থিতি শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ উপস্থিত সবার মাঝে গভীর প্রভাব ফেলেছিল, যা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।
বেরোবি উপাচার্য মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার, সহযোদ্ধা ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, শরিফ ওসমান হাদির আদর্শ, সাহস ও সংগ্রামী জীবন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ন্যায়, সত্য ও গণতন্ত্রের পথে অবিচল থাকতে অনুপ্রাণিত করবে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বাদ জুমা ইনকিলাব মঞ্চের মূখপাত্র শহীদ ওসমান হাদীকে গুলি করা হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা ও পরে সিঙ্গাপুর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে সিঙ্গাপুরে ইন্তেকাল করেন।(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
এফপি/জেএস