কক্সবাজার পুরো জেলায় মাদক ছড়িয়ে পড়েছে। শুধু শহর নয় এখন গ্রাম-গঞ্জেও মাদকের আগ্রাসন বেড়েছে। জেলার কয়েকটি ইউনিয়নের মধ্যে গর্জনিয়া ও কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন মিয়ানমার সীমান্তবর্তী হওয়ার কারণে এ এলাকার বেশ কিছু লোক মাদকের সঙ্গে জড়িত। কচ্ছপিয়া এলাকার অনেকেই রয়েছে যাদের এক সময় কিছু না থাকলেও এখন কোটি টাকা রয়েছে। যা গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ালে বের হয়ে আসবে।
পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে ইয়াবার আগ্রাসন থেকে বাঁচানো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। প্রতিনিয়ত ইয়াবা ধরা পড়ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে। আর যেসব ধরা পড়ছে না সেসব ইয়াবা বা মাদক দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এবং পর্যটন নগরী কক্সবাজারের বিভিন্ন হোটেল-মোটেল জোনে বিক্রি-বাণিজ্য হচ্ছে। এমনকি বেশ কয়েকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন ইয়াবা নিয়ে ধরা পড়ার কারণে সাধারণ মানুষ এই মাদক ব্যবসায় উৎসাহ পাচ্ছে বলে মনে করছে সাধারণ মানুষ।
অন্যদিকে মিয়ানমার থেকে গরু আসা কিছুটা বন্ধ হলেও গর্জনিয়া হয়ে গরু আসছে বলে জানা গেছে। এর সঙ্গে ইয়াবাও দেশে ঢুকছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। আর এ কাজে এখন লিড দিচ্ছে থিমছড়ি এলাকার জালাল আহমদের ছেলে রহিম উল্লাহ প্রকাশ ওরফে ডাকাত রহিম। তার বিশাল বাহিনী নিয়ে এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে বলে জানা যায়। এ রহিমের বিরুদ্ধে হত্যা ও অপহরণসহ ডজনখানেক মামলা রয়েছে বলে তথ্য রয়েছে প্রতিবেদকের কাছে।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৯০ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রামু রাবারবাগান এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি কক্সবাজার জেলা পুলিশের মিডিয়া ফোকাল পয়েন্ট অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অলক বিশ্বাস জানিয়েছেন।
এসময় বাসের হেল্পার আবু বক্কর সিদ্দিককে আটক করা হয়। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আটক হেল্পার আবু বক্কর সিদ্দিক স্বীকার করে যে, তার হেফাজতে মাদকদ্রব্য রয়েছে। তার দেওয়া স্বীকারোক্তি মতে, বাসটির লাগেজ বক্স তল্লাশি করে ৯০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃত আবু বক্কর সিদ্দিক (২৭) পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার কিসমত রামপুর এলাকার মৃত মো. মোদাচ্ছের হাওলাদারের ছেলে। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান জেলা পুলিশের এই কর্মকর্তা।
আগের দিন বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বেলা ১১টায় কক্সবাজারের উখিয়া থেকে ৩ লাখ ৬০ হাজার ইয়াবা জব্দ করে বিজিবি। তবে কাউকে আটক করতে পারেননি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উখিয়াস্থ ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন।
বিজিবি’র পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিজিবির বিশেষ টহল দল বুধবার দিনগত রাতে উখিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকা ফারির বিল নামক স্থানে অবস্থান নেয়। এসময় মিয়ানমার থেকে দুইজন ব্যক্তি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে বিজিবি নজরদারিতে রাখেন। তারা বিজিবির অবস্থান টের পেয়ে তাদের সঙ্গে ৩টি কালো ব্যাগ ফেলে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে যায়। তল্লাশিতে ৩ লাখ ৬০ হাজার ইয়াবা জব্দ করা হয়।
অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, পালিয়ে যাওয়া মাদক চোরাকারবারীদের শনাক্ত করে তাদের গ্রেফতার করার জন্য গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবা উখিয়া থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও জানান, “বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারায় নয়, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও সবসময় কঠোর অবস্থান নিয়ে কাজ করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
এফপি/অ