| শিরোনাম: |

মিসর গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি সর্বসম্মত ফিলিস্তিনি সংলাপ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। শুক্রবার রাতে মিসরের আল কাহেরা টিভি এক উচ্চপর্যায়ের সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, হামাস ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি দেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়ার পর এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। খবর মিডল ইস্ট মনিটরের।
সূত্রটি জানায়, গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করার জন্য একটি বিস্তৃত ফিলিস্তিনি সংলাপের প্রস্তুতি চলছে।
যদিও কোনো তারিখ নির্দিষ্ট করা হয়নি। তবে এই সম্মেলনে ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলিদের মধ্যে বন্দি বিনিময়ের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ সৃষ্টির পথ খোঁজা হবে।
শনিবার আল কাহেরা টিভি এক হামাস কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, এই সংলাপ মিসরেই অনুষ্ঠিত হবে এবং গাজার ভবিষ্যৎই হবে এর প্রধান আলোচ্য বিষয়।
এদিকে মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, কায়রো আরব ও ইসলামি দেশগুলোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ লাঘব এবং গাজা পুনর্গঠনে কাজ করবে।
শুক্রবার হামাস জানায়, তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনার জবাব মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে জমা দিয়েছে। এতে তারা জীবিত ও মৃত সব ইসরায়েলি বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি প্রযুক্তিগত (টেকনোক্র্যাট) ফিলিস্তিনি প্রশাসনের হাতে গাজার নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে।
ইসরায়েলের হিসাবে গাজায় এখনো ৪৮ জন ইসরায়েলি বন্দি রয়েছে, যাদের মধ্যে ২০ জন জীবিত।
অপরদিকে, ইসরায়েলি কারাগারে প্রায় ১১ হাজার ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছে। মানবাধিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের অনেকেই নির্যাতন, খাদ্যসংকট ও চিকিৎসা অবহেলার শিকার, এবং কয়েকজন কারাগারে মারা গেছেন।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প ২০ দফা পরিকল্পনা ঘোষণা করেন, যাতে ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি, যুদ্ধবিরতি এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণের কথা বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় এখন পর্যন্ত ৬৭ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। পুরো অঞ্চলটি কার্যত বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এফপি/অআ