খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বিলডাকাতিয়াসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে গৃহীত খাল পুনঃখনন কার্যক্রমে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং স্বচ্ছতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে। সঠিক তদারকি ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে কাজের প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করে অব্যয়িত ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা সরকারের রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এটি প্রশাসনের সুশাসন ও জনস্বার্থ সুরক্ষার একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর করতে সাহস ডোলডাঙ্গা খাল হতে কাঠবুনিয়া বড় দোয়ানিয়া খাল হয়ে ভদ্রা নদী অভিমুখে খাল পুনঃখনন এবং সংলগ্ন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখনন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে প্রশাসনের সরেজমিন তদারকিতে কাজের বাস্তব চিত্র অনুযায়ী প্রাক্কলিত ব্যয়ের সম্পূর্ণ অর্থ না তুলে, কেবল সম্পন্ন কাজের প্রকৃত বিল পরিশোধ করা হয়। ফলে বেঁচে যাওয়া বড় অংকের সরকারি অর্থ সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকে।
সাহস ডোলডাঙ্গা থেকে ভদ্রা নদী প্রকল্পে প্রাক্কলিত ব্যয় ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা থাকলেও, কাজের সঠিক মূল্যায়ন করে ব্যয় হয় ৯০ লাখ ৫৪ হাজার ৩৬১ টাকা। ফলে অব্যয়িত ৩৭ লাখ ২৪ হাজার ১৭৬ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত যায়। অন্যদিকে কৃষ্ণনগর নিমতলা থেকে রংপুর সাড়াতলা প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার ২৩২ টাকা। এর মধ্যে প্রকৃত কাজের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৮২ লাখ ২১ হাজার ৫৭৪ টাকা এবং অবশিষ্ট ৯৮ লাখ ৬০ হাজার ৬৫৮ টাকা নিরাপদে ফেরত দেওয়া হয়।
প্রশাসনের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আরিফ হোসেন জানান, প্রকল্প দুটির অব্যয়িত ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবিতা সরকার ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জনস্বার্থে এবং সরকারি অর্থের অপচয় রোধে স্থানীয় প্রশাসন সবসময় এমন সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে বদ্ধপরিকর।
এফপি/অ