দেশের জাতীয় সম্পদ ইলিশের নিরাপদ প্রজনন, বংশবিস্তার ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬’ সমাপ্ত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ২২ দিনব্যাপী এ অভিযান শেষ হয়।
সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এ অভিযান নৌবাহিনীর নিয়মিত টহল ও বিশেষ অপারেশনের মাধ্যমে সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
অভিযান চলাকালে মোট ২১২টি অভিযান পরিচালনা করে ৮৪ লাখ ২১ হাজার ৬৭০ মিটার অবৈধ জাল, ১৬৬টি বিভিন্ন ধরনের অবৈধ জাল, ৪টি বোট এবং ৫৭০ কেজি মা ইলিশ জব্দ করা হয়। এ ছাড়া ৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। জব্দকৃত সামগ্রীর সর্বমোট আনুমানিক মূল্য ৬১ কোটি ১৮ লাখ ৩ হাজার ৮৯০ টাকা।
অভিযান বাস্তবায়নে দেশের ৯টি জেলায় নৌবাহিনীর ৭টি জাহাজ ও বিভিন্ন কন্টিনজেন্টের মাধ্যমে নিয়মিত টহল ও নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। গভীর সমুদ্রে দেশি-বিদেশি মাছ ধরার নৌযানের অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ আহরণ প্রতিরোধে নৌবাহিনীর জাহাজ ও মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফটের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করা হয়।
এ ছাড়া নৌবাহিনীর বোট ও কন্টিনজেন্টের সদস্যরা সমুদ্র, উপকূলীয় অঞ্চল এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নদ-নদীসহ ইলিশের প্রধান প্রজনন ক্ষেত্রগুলোতে সংরক্ষণ কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয় প্রশাসন, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও মৎস্য অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে অবৈধভাবে ইলিশ আহরণ প্রতিরোধে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে জব্দ করা অবৈধ জাল স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হয়। জব্দকৃত জাটকা স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী ব্যক্তি ও মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত বোটের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের স্থানীয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রচার-প্রচারণা কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়।
উল্লেখ্য, বর্তমান সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এ ধরনের অভিযান মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন ও বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর ফলে দেশের ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সামুদ্রিক ও অভ্যন্তরীণ জলাশয়ের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণেও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে নৌবাহিনী।
নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ায় জেলেরা পুনরায় স্বাভাবিকভাবে মাছ আহরণ ও জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে দেশের সামুদ্রিক ও অভ্যন্তরীণ জলাশয়ের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার পথ আরও সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এফপি/মিব