তৃণমূল পর্যায়ের তাঁতিদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং মহাজনপ্রথা ও সিন্ডিকেটের প্রভাব থেকে মুক্ত করতে তাঁত কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন সিদ্দিকী। পাশাপাশি তাঁতশিল্পের জন্য হাব প্রতিষ্ঠা এবং তাঁতিদের স্বল্পসুদে ও বিনা সুদে ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা ১১টায় পাবনা শহরের বনমালী শিল্পকলা একাডেমিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তাঁতী দল, পাবনা জেলা শাখার সম্মেলনে উদ্বোধকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাকির হোসেন সিদ্দিকী বলেন, যেসব এলাকায় তাঁতশিল্পের প্রসার বেশি, সেসব এলাকায় তাঁতশিল্পের হাব প্রতিষ্ঠা করা হবে। তাঁতিরা ঋণের অর্থ দিয়ে স্বাধীনভাবে পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করতে পারবেন। যেসব পণ্য সরাসরি বিক্রি করা সম্ভব হবে না, সেগুলো হাবে নির্ধারিত মূল্যে বিক্রির সুযোগ থাকবে। এতে মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের প্রভাব কমবে এবং প্রান্তিক তাঁতিরা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবেন।
সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে তাঁতিদের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বও তাঁতিদের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তাঁত বোর্ডকে নির্দেশনা দিয়েছে।
তিনি বলেন, পাবনা তাঁতশিল্পসমৃদ্ধ একটি জেলা। এখানকার বেনারসি পল্লিসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী তাঁতপণ্য দেশজুড়ে পরিচিত। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে তাঁত ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের সাংগঠনিক কাঠামোর আওতায় এনে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। এর মাধ্যমে অবহেলিত প্রান্তিক তাঁতিদের ভাগ্য পরিবর্তন করা সম্ভব।
সম্মেলনে প্রধান বক্তা কেন্দ্রীয় তাঁতী দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিগত সরকারের সময়ে দেশের তাঁতশিল্প ও প্রান্তিক তাঁতিরা অবহেলার শিকার হয়েছেন। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী তাঁতপণ্যের স্বত্ব ও ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃতি রক্ষায়ও কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজন ছিল। টাঙ্গাইলের বিখ্যাত তাঁতের শাড়ির জিআই স্বীকৃতি নিয়ে ভারতের উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি এ বিষয়ে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, তাঁতী দলকে সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয় কমিটি দেশের বিভিন্ন জেলায় গিয়ে প্রান্তিক তাঁতিদের সঙ্গে কথা বলছে। তাঁদের সমস্যা চিহ্নিত করে সংগঠনকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় তাঁতী দলের সদস্যসচিব হাজী মুজিবর রহমান এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শহিদুল্লাহ ও মোস্তফা কামাল। তাঁতশিল্পের ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আমানুল্লাহ।
পাবনা জেলা তাঁতী দলের সভাপতি অধ্যাপক মো. নাজিমুদ্দিন সাগরের সভাপতিত্বে সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. বাহারুল বিশ্বাস।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা হয়। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশন, জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং পায়রা অবমুক্ত করা হয়। সম্মেলনে পাবনা জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও পৌর শাখার নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
এফপি/মিব