সাতক্ষীরায় ডেঙ্গু রোগের ভয়াবহতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে গত ৪৮ ঘন্টায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২৮ জনে দাঁড়িয়েছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ২৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ৭ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র রেফার করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতি বছরে সাতক্ষীরায় মোট ২৭৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ৪৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ডেঙ্গু রোগীদের সেবায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নিচতলার ২ নম্বর ওয়ার্ড পুরুষ এবং ৪ নম্বর ওয়ার্ড নারীদের জন্য পৃথক 'ডেঙ্গু ওয়ার্ড' হিসেবে নিবেদিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। সেখানে কর্তব্যরত নার্স আরিফা খাতুন জানান, আক্রান্তদের সার্বক্ষণিক নিবিড় তদারকিতে রাখা হচ্ছে। মশার বিস্তার ঠেকানো এবং অন্যান্য রোগীদের সুরক্ষায় প্রতিটি বেডে বাধ্যতামূলকভাবে মশারির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। প্রতিদিনই সাতক্ষীরা মেডিকেল হাসপাতাল, সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় হাসপাতালগুলোতেও বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকেরা জানান, ডেঙ্গুর সাধারণ উপসর্গের মধ্যে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা ও চোখের পেছনে ব্যথা। এসব উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।
সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসক ডা. জয়ন্ত কুমার সরকার বলেন, “জেলা সদর ও উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে রোগী ভর্তি হচ্ছেন।’
ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাড়িঘর ও আশপাশের এলাকায় কোনো ধরনের পানি জমতে দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে।
স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এফপি/অ