মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার চর রমজানবেগ এলাকায় মেঘনা নদী থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী ও এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার চর রমজানবেগ এলাকার নদী থেকে কচুরিপানার সঙ্গে ভাসমান অবস্থায় মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, মরদেহ দুটি পাঁচ থেকে সাত দিন আগের।
স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, সকালে নদীর তীরে কচুরিপানার জটলা থেকে উৎকট গন্ধ বের হচ্ছিল। পরে কচুরিপানা সরিয়ে তাঁরা পাশাপাশি তিনটি মরদেহ দেখতে পান। মরদেহগুলোর মধ্যে দুটি পুরুষের এবং একটি নারীর। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তল্লাশি চালিয়ে দুটি মরদেহ উদ্ধার করে। তবে তৃতীয় মরদেহটির সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নৌ পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা নারী ও পুরুষের মরদেহের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি। নারীর হাত-পা বাঁধা ছিল। পুরুষের মরদেহে এ ধরনের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। নারীর হাত-পা বাঁধা থাকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ছাগলের জন্য ঘাস কাটতে মেঘনা নদীর পাড়ে যান চর রমজানবেগ এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ মনির হোসেন। তিনি বলেন, সেখানে কচুরিপানার সঙ্গে পাশাপাশি তিনটি মরদেহ ভাসতে দেখেন। পরে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে পুলিশকে বিষয়টি জানান।
খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের নৌ পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মো. আলমগীর হোসেন, গজারিয়া নৌ পুলিশের পরিদর্শক সরজিৎ কুমার ঘোষসহ পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা কচুরিপানার মধ্যে তল্লাশি শুরু করেন। চর রমজানবেগ এলাকা থেকে প্রথমে এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে প্রায় ৫০ মিটার দূর থেকে নারীর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
বেলা দেড়টার দিকে মো. আলমগীর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, বেলা ১১টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে তাঁরা মরদেহ ভেসে থাকার খবর পান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুটি মরদেহ উদ্ধার করে। স্থানীয় লোকজন আরও একটি মরদেহের কথা জানিয়েছিলেন। সেটি খুঁজে পাওয়া যায়নি। উদ্ধার করা মরদেহ দুটি পাঁচ থেকে সাত দিন আগের হতে পারে। মরদেহ দুটি স্থানীয় কোনো ব্যক্তির বলে আপাতত মনে হচ্ছে না।
মরদেহ উদ্ধারের স্থানটির কাছেই নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার চর কিশোরগঞ্জ এলাকা বলে জানান চর রমজানবেগ এলাকার বাসিন্দা নিজামউদ্দিন। তিনি বলেন, একসঙ্গে এভাবে তিনটি মরদেহ ভেসে ওঠার ঘটনা তাঁরা আগে দেখেননি। একটি মরদেহ নদীর স্রোতে ভেসে অন্যদিকে চলে যেতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন। তিনজনকে হত্যা করে এখানে ফেলে দেওয়া হয়েছে, নাকি অন্য কোনো এলাকা থেকে মরদেহগুলো ভেসে এসেছে, তা তদন্ত করে বের করার দাবি জানান তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা মরদেহ দুটির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ কাজে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা সহায়তা করছেন। পাশাপাশি নদীতে তৃতীয় কোনো মরদেহ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এফপি/র