নিজের কথা বলাকে কেন্দ্র করে হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে নীরব থাকার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেছেন, এখন থেকে আর কোনো কথা বলবেন না; বরং দেখবেন পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বেলা সোয়া তিনটায় সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা সভা শেষে একাডেমিক ভবনের সামনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এ কথা বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মিনি অডিটোরিয়ামে ‘অগ্নিঝরা জুলাই ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনাসভার আয়োজন করে জাতীয় ছাত্রশক্তির বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাসীরুদ্দিন পাটোয়ারী। বিশেষ অতিথি হিসেবে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পলাশ বখতিয়ার বক্তব্য রাখেন।
আমাকেও তো হামলা করা হয়। তারা একটা জাস্টিফিকেশন দিয়েছে যে আমি কথা বলি নাকি এ জন্য। আমি আজকে থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব। পুরো বাংলাদেশে দেখব ওনারা কতটুকু বাড়তে পারে, কতটুকু যেতে পারে। আমরা সেই মাত্রাটা দেখব।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক
সিলেটের গোলাপগঞ্জে এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমকে বহন করা গাড়িতে হামলা হয়েছে। গাড়ির পেছনের কাচ ভেঙে গেছে। আজ বেলা পৌনে তিনটার দিকে গোলাপগঞ্জ পৌরসভা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে চলে যাওয়ার সময় এই ঘটনা ঘটে। হামলার জন্য ছাত্রদলকে দায়ী করেছেন সারজিস।
বিষয়টি উল্লেখ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘সার্জিসের গাড়িতে একটু আগে হামলা হয়েছে, ছাত্রদল হামলা করেছে এবং সেখানে গাড়িগুলো ভাঙচুর করেছে। আমরা সেখানে রওনা দিচ্ছি। আমাকেও তো হামলা করা হয়। তারা একটা জাস্টিফিকেশন দিয়েছে যে আমি কথা বলি নাকি এ জন্য। আমি আজকে থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব। পুরো বাংলাদেশে দেখব ওনারা কতটুকু বাড়তে পারে, কতটুকু যেতে পারে। আমরা সেই মাত্রাটা দেখব।’
এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে এনসিপি নেতাদের গাড়িবহরে হামলা ও নেতা-কর্মীদের মারধর করা হয়। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয় দলটি। পরে হবিগঞ্জ বিএনপি ও ছাত্রদলের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করে। এরপরও এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা প্রতিবাদ মিছিল করতে হবিগঞ্জ যেতে চাইলে পুলিশের বাধায় তা সম্ভব হয়নি। পরে বাহুবলের কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে একটি অভিযোগ দিয়ে চলে আসেন তাঁরা।
এ বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আমরা গতকাল অভিযোগ দিয়েছি। তবে সেখানে অভিযোগে কিছু সংশোধন আসছে, কারণ একজন ব্যক্তির নাম সেখানে ছিল, যেটা ভিডিওতে ছিল না। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, আজ পূর্ণ সংশোধনী চলে আসবে, ইনশা আল্লাহ আমরা আজই এফআইআরের কপি পেয়ে যাব।’
দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলছে দাবি করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে সরকারকে আহ্বান জানান। হবিগঞ্জে হামলায় আহত জাতীয় ছাত্রশক্তির সংগঠক আলিফ চৌধুরীর পরিস্থিতি তুলে ধরেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানাচ্ছি—একজন ইন্টারের ছেলে, যে কাউকে কখনো মারতে যায়নি, তার বাবা অসুস্থ, মা প্রতিবন্ধী, এখন অপারেশন থিয়েটারে আছে। আপনি কি পারবেন তার চোখটা ফেরত দিতে? আমরা বাংলাদেশে আর কোনো সহিংস রাজনীতি দেখতে চাই না। আমরা এতটুকুই বলব প্রিয় তারেক রহমান, আলিফের চোখটা ফেরত দিন। আমরা চুপ হয়ে যাব, আর কিছু বলব না। আপনি আপনার ক্ষমতা চালান, আমরা কিছু চাই না। কিন্তু আমাদের আলিফের চোখটা ফেরত চাই।’
দেশে আবারও সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করে নাসীরুদ্দীন বলেন, ‘গতকাল হবিগঞ্জ থেকে আজ গোলাপগঞ্জ আমরা যা দেখছি, তাতে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে দেশকে আবারও নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং সরকারের সন্ত্রাসী চরিত্র জাতির সামনে উন্মুক্ত হচ্ছে। সরকার যদি সন্ত্রাসের পথে হাঁটে, তাহলে জনগণ প্রতিরোধের পথে হাঁটবে। আমরা গোলাপগঞ্জে যাব, দেখি এই সরকারের কত সন্ত্রাসী আছে, তাঁরা কতটুকু প্রতিরোধ করতে পারে। কিন্তু গণভোটের রায়, সংস্কার ও বিচারের পক্ষে, জনগণের অধিকারের পক্ষে আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।’
সরকারের সমালোচনা করে নাসীরুদ্দীন বলেন, ‘তাহলে সরকার সংস্কার চাইছে না। সরকার কোনো ধরনের গণতান্ত্রিক পরিবর্তন করতে দেবে না এবং কোনো রাজনৈতিক শক্তির নতুন উত্থান ঘটুক, সেটাও চাইছে না। পুরোনো কায়দায় বিরোধী দলকে আক্রমণ করা হচ্ছে, হামলা করা হচ্ছে। খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে যেভাবে সন্ত্রাসীরা হামলা করেছিল, একই কায়দায় এখন আমাদের গাড়িবহরে হামলা করা হচ্ছে। এর জবাব ইনশা আল্লাহ বাংলাদেশের জনগণ দেবে।’
এফপি/র