দেখতে দেখতে ২ বছর কেটে গেছে।নতুন সরকার এসেছে। প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি মিলিয়ে মন ভাল নেই ব্রাহ্মণ্যবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নের দুলারামপুর গ্রামের বিল্লাল মিয়ার ছেলে ১৯ বছরের আমির হোসেনের।গুলি লাগা পা এখনো স্বাভাবিক হয়নি।ভারী কাজ করতে পারেন না। তারপরও অর্ডার পেলে গাছ কাটার মেশিন হাতে গাছ কেটে সামান্য উপার্জন করেন। এতে ৬ সদস্যদের পরিবারের কিছুটা সহায়তা হয়। বৃদ্ধ অটো চালক পিতা বিল্লাল মিয়াও এতো বড় সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। ঘরে নুন, তেল, চাল কিনতে এমন শরীর নিয়েও গাছ কাঁটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে হয়।
মঙ্গলবার (২১জুলাই) জানায়, সে এখনো স্বাভাবিক হতে পারেনি। গত কোরবানি ঈদের দিন মাদক ব্যবসায়ীদের মাদক বিক্রির বিরুধিতা করায় সে সহ তার বৃদ্ধ বাবা, বড় ভাই এর উপর হামলা করে। ভয়ে মামলা করেনি। কারন, হামলাকারীদের সাথে পুলিশ ঘুরে বেড়ায়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার রামপুরার বনশ্রীতে একটি নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণ আমির হোসেনকে একের পর এক গুলি করেছিল পুলিশ। ৬টি গুলি পায়ে লাগে তার। সৌভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে গেলেও পায়ে গুলি লাগে তাঁর।
আক্ষেপ নিয়ে আমির বলেন, ৫ আগষ্টের পর কিছু আর্থিক সহযোগিতা ও অনেকে খোঁজখবর নিলেও এখন আর তার খোঁজ নেয় না কেউ। প্রশাসনও কোন খোঁজ নেয় না তার।
কয়েকমাস ধরে ভাতাও পাচ্ছে না। তাই চিকিৎসার ফলোআপ করতে পারছেনা। সে আরও জানান তাকে সরকারের পক্ষ থেকে একটা অটোরিকশা কিনে দিলে ভালো হতো।
এবিষয়ে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো তারিকুল ইসলাম আজ মঙ্গলবার বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বহু যোদ্ধাদের আমরা সহায়তা করেছি। আমির আমার সাথে মতবিনিময় করেনি। তাঁর সমস্যার কথা না জানালে তো আমরা জানতে পারবো না।”
স্থানীয় বাসিন্দা এডভোকেট কামরুজ্জামান বলেন, “২৪ এর ১৯ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ভয়াল সেই স্মৃতি এখনো তাকে তাড়া করে বেড়ায়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেশের অনেক কিছু বদলেছে, কিন্তু ভাগ্য বদলায়নি আমির হোসেনের। আমরা চাই প্রশাসন থেকে তাঁর জন্য কিছু একটা করা হোক।একটা অটোরিকশা কি সরকার কিনে দিতে পারেনা-অভিমানী কিশোরটিকে? সে আমাদের সোনারামপুর ইউনিয়নের অহংকার।”
স্থানীয় শিক্ষক সেলিম মিয়া বলেন, “গণঅভ্যুত্থানে আমির হোসেনের গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সময়ের সঙ্গে তাকে সবাই ভুলতে বসেছে। ২০২৪ সালে ৫ আগষ্টের আগে চায়ের দোকানে কাজ করা সেই তরুণ এখন মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। আমিরদের মতো তরুণ জন্য একটা গণ-অভ্যুত্থানের সফল হয়েছে। তবে, তাঁর জীবন কেন ব্যর্থ হবে?”
এফপি/ফ