রাজশাহীর তানোর উপজেলাকে বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিশুমুক্ত এবং শিশুবান্ধব উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে শপথ গ্রহণ, গণস্বাক্ষর কর্মসূচি এবং মুক্ত ঘোষণাপত্রের ফলক উন্মোচন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের তানোর এরিয়া প্রোগ্রাম (এপি)-এর সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা পরিষদ প্রশাসক নাঈমা খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সিনিয়র ডিরেক্টর (অপারেশনস) চন্দন জেড গোমেজ, ডেপুটি ডিরেক্টর (ফিল্ড অপারেশনস) রাজু উইলিয়াম রোজারিও এবং রাজশাহী এডিপিসির সিনিয়র ম্যানেজার লোটাস চিসিম।
বক্তব্যে ইউএনও নাঈমা খান বলেন, শিশুবান্ধব উপজেলা গড়ে তোলার এই উদ্যোগ শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি একটি সামাজিক অঙ্গীকার। বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম এবং বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া রোধে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক, ধর্মীয় নেতা এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।
বিশেষ অতিথিরা বলেন, প্রতিটি শিশুর নিরাপদ শৈশব, শিক্ষা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনগণ এবং শিশু-কিশোরদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তানোরের এই উদ্যোগ দেশের অন্যান্য এলাকার জন্যও অনুসরণীয় হতে পারে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তানোর থানার ওসি (তদন্ত) মোয়াজ্জেম হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হাবিবা খাতুন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলেয়া ফেরদৌসী, তানোর এপির ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার এন্ড্রিকাস মুর্ম, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, চাইল্ড ও ইয়ুথ ফোরামের সদস্য, গণমাধ্যমকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
আয়োজকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তানোর উপজেলায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, শিশুশ্রম নিরসন এবং বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিশুদের পুনরায় শিক্ষার আওতায় ফিরিয়ে আনতে উপজেলা প্রশাসন, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় নেতা ও স্থানীয় কমিউনিটির সমন্বয়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। এসব কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় শিশুবান্ধব উপজেলা গঠনের এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
শিশু ফোরামের সদস্য মুক্তা খাতুন ও যুব ফোরামের সদস্য সারোয়ার হোসেনের যৌথ সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, শিশুশ্রম নিরসন এবং বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিশুদের শিক্ষায় ফিরিয়ে আনতে বিশেষ অবদান রাখায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
পরে ইউএনও নাঈমা খানের নেতৃত্বে উপস্থিত সবাই শপথ বাক্য পাঠ করেন। এরপর অনুষ্ঠিত হয় গণস্বাক্ষর কর্মসূচি, যেখানে অতিথি, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা শিশুবান্ধব তানোর গড়ার অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেন। সবশেষে ইউএনও নাঈমা খান ‘বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিশুমুক্ত তানোর’-এর মুক্ত ঘোষণাপত্রের ফলক উন্মোচন করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম এবং বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া রোধে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি সত্যিকার অর্থে শিশুবান্ধব সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। তানোরের এই উদ্যোগ সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এফপি/র