বলিউড সুপারস্টার সালমান খানকে হত্যার হুমকি দিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় আসে গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই। এবার তার গ্যাংএর দুই সদস্য হুমকি দিয়েছে বলিউডের আরেক সুপারস্টার আমির খানকে।
গত ৫ জুলাই মুম্বাইয়ের বান্দ্রার বাসায় পারিবারিকভাবে বান্ধবী গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করেছেন আমির খান। এটি তার তৃতীয় বিয়ে। আমির খান নিজে মুসলমান হলেও তার তিন স্ত্রীই হিন্দু ধর্মাবলম্বী। তৃতীয় বিয়ের পর বিভিন্ন উগ্রবাদী সংগঠন আমির খানের বিরুদ্ধে ‘লাভ জিহাদ’এর অভিযোগ এনে বিক্ষোভ করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ভাই আরজু বিষ্ণোই এবং টাইসন বিষ্ণোই নামে তার গ্যাংএর অপর এক সদস্য মিলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে আমির খানের বিরুদ্ধে 'লাভ জিহাদ' প্রচারের অভিযোগ আনে।
শনিবার সকালে ফেসবুক পোস্ট এবং ভিডিও বার্তায় বলা হয়, আমি আরজু বিষ্ণোই এবং টাইসন বিষ্ণোই (লরেন্স বিষ্ণোই গ্রুপ) বলতে চাই যে, আমির খানের মতো মানুষ আমাদের দেশে 'লাভ জিহাদ' নামে পরিচিত বিষয়টি প্রচার করছেন, যা আমাদের সংস্কৃতির পরিপন্থী। আমরা এই লোকটিকে সহ্য করব না এবং শিগগিরই তাকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। এটি সনাতন ধর্ম এবং দেশের বিরুদ্ধে।’
এতে আরও যোগ করা হয়, ’আমরা আমাদের ভাই, বোন এবং নাগরিকদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, যারা এই ধরনের লজ্জাজনক কাজ প্রচার করবে তাদের আমাদের নিজস্ব উপায়ে মোকাবিলা করা হবে। যারা স্টারডমের নামে এটিকে উৎসাহিত করছে তাদের থামিয়ে দেওয়া হবে।’
সূত্র অনুযায়ী, পুলিশ ফেসবুক এবং একটি ভয়েস নোটের মাধ্যমে এই কথিত হুমকির তথ্য পেয়েছে, যা তারা যাচাই করে দেখছে। সূত্রগুলো জানাচ্ছে যে, মুম্বাই পুলিশ এখনও আমির খান বা তার টিমের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পায়নি। আমির খানের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে মামলা দায়ের করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
এর আগে বলিউড অভিনেতা সালমান খান ও তার পরিবার বছরের পর বছর ধরে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের কাছ থেকে একের পর এক হুমকি পেয়ে আসছেন। ১৯৯৮ সালে রাজস্থানের যোধপুরে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ সিনেমার শুটিং চলাকালে সালমান খানের বিরুদ্ধে দুটি ‘কৃষ্ণসার হরিণ’ শিকারের অভিযোগ ওঠে। বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের মানুষ প্রকৃতি এবং বন্যপ্রাণী রক্ষাকে তাদের পরম ধর্মীয় কর্তব্য বলে মনে করে। তারা ‘কৃষ্ণসার হরিণ’কে অত্যন্ত পবিত্র জ্ঞান করে এবং তাদের আধ্যাত্মিক নেতা গুরু জাম্বেশ্বরের পুনর্জন্ম হিসেবে বিশ্বাস করে। তাই হরিণ হত্যার এই ঘটনা পুরো বিষ্ণোই সম্প্রদায়কে গভীরভাবে ক্ষুব্ধ করে। তাদের দায়ের করা মামলায় ২০১৮ সালে যোধপুর আদালত সালমান খানকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিলেও পরবর্তীতে তিনি জামিনে মুক্তি পান। হরিণ শিকারের ঘটনার সময় লরেন্স নিতান্তই শিশু ছিলেন। কিন্তু ঘটনাটি তার মনে গভীর রেখাপাত করে।
২০১৮ সালে যোধপুর আদালতে হাজিরার সময় লরেন্স প্রকাশ্যে প্রথমবার ঘোষণা দেন, ‘আমরা যোধপুরেই সালমান খানকে হত্যা করব। তখন তিনি বুঝবেন আমরা কারা।’ তবে হুমকি দিয়ে বসে থাকেননি লরেন্স বিষ্ণোই। এরপর ধারাবাহিক হুমকি সালমান পরিবারকে শঙ্কিত করে তোলে। ২০২২ সালে সালমানের বাবা সেলিম খান প্রাতঃভ্রমণের সময় একটি চিরকুট পান, যাতে বাবা-ছেলেকে হত্যার হুমকি ছিল। ২০২৩ সালেও গোল্ডি ব্রারের পক্ষ থেকে সালমানকে হুমকি দিয়ে ইমেইল পাঠানো হয়। ২০২৪ সালের ১৪ই এপ্রিল ভোর ৫টায় মুম্বাইয়ের বান্দ্রা এলাকায় সালমানের বিলাসবহুল ‘গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্ট’-এর বাইরে মোটরবাইকে চড়ে আসা দুই শ্যুটার ভবনের দেয়াল ও সালমানের বারান্দা লক্ষ্য করে অন্তত ৫ রাউন্ড গুলি চালায়।
২০১৫ সাল থেকে কারাগারে বন্দী লরেন্স বিষ্ণোই। তার বিরুদ্ধে ৩০টিরও বেশি মামলার বিচার চলছে। তবে কারাগারে বসেই ভারত এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বিস্তৃত গ্যাং পরিচালনা করছেন লরেন্স বিষ্ণোই। এ মাসের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশ লরেন্স বিষ্ণোইসহ ভারতভিত্তিক আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ’অপারেশন হার্ড বল’ নামে একটি বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করছে।
এফপি/অ