Dhaka, Tuesday | 14 July 2026
         
English Edition
   
Epaper | Tuesday | 14 July 2026 | English
২০৩০ সালের মধ্যে দেড় কোটির বেশি পরিবার পাবে ফ্যামিলি কার্ড
ম্যারাডোনাকে ছুঁলেন বেলিংহাম
পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনে পরীক্ষার্থীরা, যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী
চট্টগ্রাম ছাড়া সারাদেশে এইচএসসি পরীক্ষা চলবে
শিরোনাম:

রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে ব্যাখ্যা শিক্ষামন্ত্রীর

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ৫:৫৩ পিএম  (ভিজিটর : ২৭)

শিক্ষামন্ত্রী জানান, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, স্থানীয় প্রশাসনের মতামত এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস বিশ্লেষণ করেই নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। একই সঙ্গে পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ত্রুটির কারণে পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে বলেও তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।

ভারী বৃষ্টি ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও এইচএসসির মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা কেন এক বা দুই দিন পিছিয়ে দেওয়া হলো না—জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে সেই প্রশ্ন তুলেছেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, স্থানীয় প্রশাসনের মতামত এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস বিশ্লেষণ করেই নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। একই সঙ্গে পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ত্রুটির কারণে পরীক্ষার্থীদের 'ফুল ক্রেডিট' বা পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে বলেও তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তারা।

রুমিন ফারহানার প্রশ্ন

স্পিকারের মাধ্যমে সম্পূরক প্রশ্ন উত্থাপন করে রুমিন ফারহানা বলেন, 'এইচএসসির মতো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা রাখে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষাটি কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছিল এবং ঢাকায় এ নিয়ে আন্দোলনও হয়েছে। বিশেষ করে পদার্থবিজ্ঞানের মতো বিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের পরীক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক দাবি বিবেচনায় নিতে কী সমস্যা ছিল?'

উল্লেখ্য, এবার পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্ন সিলেবাসের বাইরে থেকে করা হয়েছে বলে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে।

শিক্ষামন্ত্রীর ব্যাখ্যা

রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারা দেশে প্রায় ২ হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে বন্যা পরিস্থিতির কারণে রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িসহ পুরো চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা আগেই স্থগিত করা হয়েছিল।

মন্ত্রী জানান, পরিস্থিতি সরকার সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রেখেছিল। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি), আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) সঙ্গে বিশদ আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানতে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হয়। সংশ্লিষ্ট সবাই পরিস্থিতি অনুকূলে থাকবে বলে মত দেওয়ার পর বিকেল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কুমিল্লার ঘটনা ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা

মন্ত্রী পরীক্ষার দিনের একটি বিশেষ ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, ওই দিন সকালে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের মাঠে পানি জমে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে মেয়র, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সহায়তায় পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে কেন্দ্রের ভবনে পৌঁছে দেওয়া হয়। বৃষ্টির কারণে অনেক শিক্ষার্থীর পোশাক ভিজে যাওয়ায় তাদের জন্য বিকল্প পোশাকের ব্যবস্থা করা হয়। এ কারণে পরীক্ষা এক ঘণ্টা বিলম্বে শুরু হলেও পরে শিক্ষার্থীদের সেই অতিরিক্ত সময়টুকু বুঝিয়ে দেওয়া হয়। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে পরীক্ষা স্থগিত বা বিলম্বে নেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা স্থানীয় প্রশাসনকে আগেই দেওয়া ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পদার্থবিজ্ঞান প্রসঙ্গ

পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ত্রুটির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ব্যাখ্যা দেন যে, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মডারেশনের প্রক্রিয়া প্রায় দুই বছর আগে শুরু করতে হয়। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের আগে বিগত সরকারের আমলে নিযুক্ত মডারেটররাই এই প্রশ্নপত্র প্রস্তুত করেছিলেন। তবে প্রশ্নপত্রের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল থাকার বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, ওই দুটি প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর (ফুল ক্রেডিট) দেওয়া হবে।

লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে

এদিকে, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মার্জিয়া বেগমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে সাধারণ বা বিশেষায়িত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিটি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির আইন ভেটিংয়ের কাজ চলছে। তিনি বলেন, ইউরোপ ও আমেরিকার পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে এখানে একটি বিশেষায়িত 'স্কুল অব এগ্রিকালচার' বা কৃষি অনুষদ গড়ে তোলা হবে, যা এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটাবে।


এফপি/র
সর্বশেষ সংবাদ  
সর্বাধিক পঠিত  
YOU MAY ALSO LIKE  
Editor & Publisher: S. M. Mesbah Uddin
Editorial, News and Commercial Offices: Akram Tower, 15/5, Bijoynagar (9th Floor), Ramna, Dhaka-1000
Call: 01713-180024, 01675-383357 & 01840-000044
E-mail: news@thefinancialpostbd.com, ad@thefinancialpostbd.com, hr@thefinancialpostbd.com
...
🔝