কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পারিবারিক বিরোধের জেরে এক ব্যক্তি তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন।
ক্যাম্প প্রশাসনের সহযোগিতায় নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উখিয়ার ৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি-৬ ব্লকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, ওই ক্যাম্পের বি-৬ ব্লকের বাসিন্দা এথাসমুল হকের স্ত্রী শহীদ নূর (৩৩) এবং তাঁর দুই ছেলে মোহাম্মদ আফসার (৯) ও মোহাম্মদ শামীম (৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদকাসক্ত এথাসমুল হক পারিবারিক বিরোধের জেরে স্ত্রী ও দুই সন্তানের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে শহীদ নূর ও ছেলে শামীম ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত আফসারকে স্থানীয় রোহিঙ্গারা দ্রুত ক্যাম্পসংলগ্ন ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনার পর অভিযুক্ত এথাসমুল হক পালিয়ে যান।
৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি আমির হোসেন তিনজন হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। মাঝে-মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হতো। এথাসমুল হক মাদকাসক্ত ছিলেন এবং ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।
ঘটনার পর উখিয়া থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ ব্যাপারে উখিয়া থানার ওসি মুজিবুর রহমান বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এফপি/র